ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়নে ৩৮টি অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস বা এপিআই তৈরির কাজ শুরু করেছে ভারত। এককভাবে চীননির্ভরতা কমিয়ে আনতে দেড় বছর ধরে খাতটিকে পরিবর্তনে ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়া। খবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
মান্ডভিয়া দাবি করেছেন, ২০১৭ সালে ডোকালামে ভারত ও চীনের মধ্যকার টানাপড়েন চলাকালে ভারত স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় উপাদানের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে এপিআই আমদানির জন্য এককভাবে ভারত চীনের ওপর নির্ভর করত। দেশটির চাহিদার ৯৫ শতাংশ পূরণ করত চীন। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট আহমেদাবাদে (আইআইএমএ) স্বাস্থ্যসেবার সম্মেলন চলাকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নতুন পদক্ষেপের কথা জানান।
স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় উপাদান উৎপাদনে দেশটির সরকার বিশেষ ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ বা পিএলআই স্কিম নামে পরিচিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই স্বাস্থ্য খাতে যে ৫৪ ধরনের ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান আমদানি করতে হয়, তা যেন আমরা দেশীয়ভাবে উৎপাদন করতে পারি। মাত্র দেড় বছরের মধ্যে আমরা ৩৮টি এপিআই অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন শুরু করে দিয়েছি, যা আনন্দের খবর। নতুন অগ্রগতি একটি আত্মনির্ভর ভারত তৈরির ক্ষেত্রে সফল পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।’
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের অগ্রগতির জন পিএলআই স্কিমের অধীনে ভারতীয় সরকার ১৫ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতকে সহজলভ্য ও গ্রামীণ অঞ্চলেও সম্প্রসারিত করতে নেয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। গত নয় বছরে ভারত সরকার এমবিবিএস আসনসংখ্যা ৫২ হাজার থেকে ১ লাখ ৭ হাজারে উন্নীত করেছে। চলতি বছরে নতুন ৫৪টি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মান্ডভিয়া দাবি করেছেন, মহামারীর সময় ভারত স্বাস্থ্য খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ব্যাপারে পুনরায় চিন্তা করেছে। তার জন্য নতুন করে গৃহীত হয়েছে পরিকল্পনা। তার ভাষায়, ‘ভারতে কখনই মেধা ও জনশক্তির অভাব ছিল না। কেবল আমাদের তরুণদের স্বপ্নকে কাজে লাগানোর জন্য পথ ও সুযোগ তৈরি করে দেয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে গবেষণা ও আবিষ্কার হলো দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি।’
মান্ডভিয়া বলেন, ‘সৃজনশীলতা ও আবিষ্কারের অভাবে আত্মনির্ভর ভারত তৈরিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদি আমরা নিজস্ব গবেষণা জারি না রাখি, যদি আমরা সময়মতো প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে না পারি, তাহলে আমরা বাধ্য হব উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে। ফলে অভ্যন্তরীণ খাতকে শক্তিশালী করার জন্য সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর। অভ্যন্তরীণ ফার্মাসিউটিক্যাল খাত, গবেষণা ও উন্নয়নকে দেখা হবে সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে।’
আইআইএমএ চেয়ারম্যান পঙ্কজ প্যাটেল ও পরিচালক ভারত ভাস্কর সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের আয়োজন করেছিল সেন্টার অব ম্যানেজমেন্ট অব হেলথ সার্ভিস ও আইআইএমএ হেলথকেয়ার অ্যালমনাই স্পেশাল ইন্টারেস গ্রুপ (এসআইজি)। সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবনের গুরুত্ব ও উদ্যোক্তা তৈরির ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।










