যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের বেকারত্বের হার কমেছে। মার্চে রেকর্ড পরিমাণে কমে তা ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি করোনা মহামারী-পরবর্তী দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সাক্ষ্য দেয়। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট।
মাত্র তিন বছর আগেও চিত্রটি বিপরীত ছিল। করোনা মহামারীর কারণে কৃষ্ণাঙ্গদের বেকারত্বের হার বেড়ে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছিল। শ্বেতাঙ্গদের বেকারত্বের হারও রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে ১৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।
করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে কৃষ্ণাঙ্গদের বেকারত্বের হার কম ছিল। ২০১৯ সালের আগস্টে তা ৫ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। চলতি বছরের মার্চে সে রেকর্ডটি ভাঙল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে কৃষ্ণাঙ্গদের বেকারত্বের হার বেড়ে গিয়েছিল। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নিঃসন্দেহে এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বড় একটি সাফল্য। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে বর্তমানে বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম। বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকার নাগরিকদের ক্ষেত্রে তা রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে।’ বেকারত্বের হার কমার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গদের অংশগ্রহণ বেশি। ২০২১ সালের জুনে দেশটির শ্রমবাজারে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণাঙ্গদের সংখ্যা শ্বেতাঙ্গদের অতিক্রম করে। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্চে শ্রমবাজারে কৃষ্ণাঙ্গদের অংশগ্রহণের হার ছিল ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ। শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের তুলনায় তা প্রায় দুই পয়েন্ট বেশি।
হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম স্প্রিগস কৃষ্ণাঙ্গদের এ অর্জনে বলেন, ‘এটি একটি বিজয়। কেবল এ কারণে নয় যে কৃষ্ণাঙ্গদের বেকারত্বের হার কম। কারণ প্রথমবারের মতো কর্মক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গদের অংশগ্রহণ বেশি।’
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের অংশগ্রহণের হার ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। কিন্তু সেবা খাতের বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক চাকরিতে তাদের অংশগ্রহণ ছিল। অধিকন্তু, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি, রেস্তোরাঁ, বার ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিমাণে কৃষ্ণাঙ্গ কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মার্চে সে সংখ্যা ৫০ হাজারে পৌঁছেছে।
দ্য কনফারেন্স বোর্ডের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ডানা এম পিটারসন বলেন, ‘অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পর থেকে প্রচুর মানুষ কাজ পেয়েছে। তাদের বেতনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিসপানিক কর্মীরা এগিয়ে।’
হোম অফিস করার সুযোগ বাড়ার কারণে কৃষ্ণাঙ্গদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। গবেষণায় দেখা যায়, কর্মজীবী মা ও কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীরা বাসায় বসে অফিস করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফিউচার ফোরাম ফেব্রুয়ারিতে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ডেস্কে কাজ করা কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের ৮১ শতাংশ হোম অফিস অধিকতর পছন্দ করে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের ৭৯ শতাংশ হোম অফিস করতে চায় বলে প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। কর্মজীবী মায়েদের ৫৯ শতাংশ জানান, সপ্তাহে অন্তত তিন-পাঁচদিন তারা বাসায় থেকে অফিস করতে চায়। কর্মজীবী পিতাদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৪৭ শতাংশ বলে প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।










