বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশ মালয়েশিয়া। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির পাম অয়েল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ফলে পণ্যটি রফতানিতেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এসব কারণে জুলাইয়ে পাম অয়েলের মজুদ বেড়ে ১০ মাসের সর্বোচ্চে উঠে এসেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
নয়টি পাম অয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের থেকে নেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সমীক্ষা পরিচালনা করেছে রয়টার্স। এতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাস ধরে বাড়ছে পাম অয়েলের মজুদ। সর্বশেষ জুলাইয়ে পণ্যটির মজুদ ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪০ হাজার টনে।
যে মাসগুলোতে সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল উৎপাদন হয়ে থাকে সেসব মাসে প্রত্যাশার চেয়েও কম উৎপাদন হয়েছে। গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পাম অয়েল উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে মালয়েশিয়া। সর্বশেষ জুলাইয়ে দেশটির পাম অয়েল উৎপাদন ৪ শতাংশ কমে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমে গেছে।
মালয়েশিয়ার প্রসিদ্ধ পাম অয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোন্তাস অয়েলের মহাব্যবস্থাপক লি তং হোয়াং জানান, মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের ফলন ভালো হয়নি। বিশেষ করে সাবাহ রাজ্যে পাম অয়েলের গাছগুলোতে অপর্যাপ্ত ফল এসেছে। এদিকে শুধু ফলন নয়, মহামারীর প্রভাবে শ্রমিক সংকটও পণ্যটির উৎপাদনে ঘাটতির আশঙ্কা তীব্র করে তুলছে।
উৎপাদনের পাশাপাশি পাম অয়েল রফতানি হ্রাসের তথ্যও মিলেছে। রয়টার্স জানায়, জুলাইয়ে পাম অয়েল রফতানি ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১৩ লাখ ৬০ হাজার টনে নেমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল ক্রেতা দেশ ভারত। দেশটি নিজস্ব চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে মালয়েশিয়া থেকে। তবে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েলের দাম কমতে থাকায় ভারতের ক্রেতারা মালয়েশিয়া থেকে পণ্যটির ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেন। এটি রফতানি হ্রাসে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এদিকে দিওয়ালি উপলক্ষে ভারতের আমদানিকারকরা আগেই অতিরিক্ত পাম অয়েল কিনে মজুদ করে রেখেছেন। এ কারণেও রফতানি হ্রাস পেয়েছে।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক ফিলিপ ফিউচারসের ইনস্টিটিউশনাল সেলস ম্যানেজার মার্সেলো কালট্রেরা বলেন, বর্তমান বাজারমূল্যের কারণে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেশির ভাগ পাম অয়েলই ইন্দোনেশিয়া থেকে ক্রয় করবে ভারত। তিনি আরো বলেন, আমদানি শুল্ক ও করের কারণে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল মালয়েশিয়ান পাম অয়েল থেকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।










