ইউরোজোনের দুই বৃহৎ দেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। জার্মানি চ্যালেঞ্জ ও চাপের মধ্যে রয়েছে, আর ফ্রান্সে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এটি ইউরোজোনের সামগ্রিক অর্থনীতির একটি অংশ। সামগ্রিকভাবে এ অঞ্চলের উৎপাদন খাত সংকুচিত হচ্ছে আর সেবা খাত ছয় মাস পতনের পরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। খবর ইউরোনিউজ।
হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এইচসিওবি) পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, ইউরো অঞ্চলে বেসরকারি খাতের ওপর করা সর্বশেষ জরিপে দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। জার্মানিতে অর্থনৈতিক সংকোচন আরো গভীর হয়েছে। ফ্রান্সে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
পিএমআই সূচক মান কোনো খাতে ৫০-এর বেশি হলে তা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বোঝায়। আর ৫০-এর কম হলে তা সংকোচন বোঝায়। ওপরে পর্যবেক্ষণ আগের মাসের তুলনায় সামগ্রিক বৃদ্ধি এবং ৫০-এর নিচে সামগ্রিক হ্রাস নির্দেশ করে।
ইউরোজোনের বেসরকারি খাতের কার্যক্রম ফেব্রুয়ারিতে সামান্য উন্নতি করেছে। ফলে এইচসিওবির কম্পোজিট পিএমআই সূচক জানুয়ারিতে ৪৭ দশমিক ৯ থেকে ৪৮ দশমিক ৯-এ উঠে গেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে শ্লথ সংকোচন নির্দেশ করছে, যা ৪৮ দশমিক ৫-এর প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
এইচসিওবির ইউরোজোন ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ৪৬ দশমিক ৬ থেকে ৪৬ দশমিক ১-এ নেমে এসেছে। ফলে উৎপাদন খাত পিছিয়ে আছে। এটি প্রত্যাশিত সূচক ৪৭-এর চেয়ে কম। এ নিয়ে টানা ১১ মাসের মতো ইউরোজোনে উৎপাদন খাতের পিএমআই সূচক মানে পতন ঘটল।
এর বিপরীতে সেবা খাতে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। এইচসিওবির ইউরোজোন সার্ভিসেস পিএমআই ৫০-এ উঠে এসেছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৪৮ দশমিক ৪। ফেব্রুয়ারিতে এটা ৪৮ দশমিক ৮ হওয়ার পূর্বাভাস ছিল।
হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ নরম্যান লিবকে জানিয়েছেন, ইউরোজোনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে এক ধাপ এগিয়েছে, বিশেষ করে সেবা খাতে পরিবর্তন লক্ষণীয়। ফ্রান্সে সেবা ও উৎপাদন উভয় খাতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে। তবে জার্মানি ইউরোজোনের সামগ্রিক বৃদ্ধিকে শ্লথ করে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) সাম্প্রতিক পিএমআই পর্যবেক্ষণগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না। কারণ উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে মজুরি বেড়ে যাওয়ায় শ্রমসংশ্লিষ্ট সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি প্রবল হয়েছে।
হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ড. তারিক কামাল চৌধুরী জানিয়েছেন,”জার্মানির অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটির উৎপাদন খাত সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে টেনে নিচে নামিয়ে আনছে। সেবা খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও অন্যান্য খাতের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জার্মান অর্থনীতির জন্য সময়টি ভালো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘বার্লিনকে কাঠামোগত সমস্যা মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা ও বিদ্যমান কাজের পরিবেশে কী করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।’
হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ নরম্যান লিবকে বলেন, ‘ফ্রান্সের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। উৎপাদনে নতুন অর্ডারের সূচক ৭ পয়েন্টেরও বেশি বেড়েছে। যদিও এটি একক ঘটনা নাকি সামগ্রিক প্রবণতার সূচনা তা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। এটাও লক্ষণীয় যে লোহিত সাগরে সংঘাতের কারণে সুয়েজ খাল থেকে জাহাজ বিকল্প পথে আনার প্রভাব ফ্রান্সের অর্থনীতিতে খুব বেশি দেখা যায়নি।’










