চলতি বছরের সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে আশঙ্কার চেয়েও বেশি কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ। বছরের শেষ দিকে এসে করের বোঝা থেকে বাঁচতে মজুদ কমিয়ে আনছে কোম্পানিগুলো। তবে গ্যাসোলিনের মজুদ বেড়েছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, ১৭ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ২৭ লাখ ব্যারেল করে কমতে পারে বলে ধারণা করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কিন্তু ওই সপ্তাহে পণ্যটির মজুদ ৪৭ লাখ ব্যারেল করে কমেছে। মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেলে। রয়ালিটি শুল্ক ব্যয় কমিয়ে আনতে বছরের শেষ সপ্তাহগুলোয় মার্কিন কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদের পরিমাণ কমিয়ে আনছে। মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে মজুদ সবচেয়ে বেশি কমেছে।
জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের ঊর্ধ্বতন বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, হারিকেন আইডার কারণে মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয় চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। এ কারণেও মজুদ থেকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হয়। অন্যদিকে শুল্কজনিত কারণে আমদানি কমে যাওয়াও এতে ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মজুদ বেড়ে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেলে পৌঁছনোর প্রত্যাশা করেছিল বিশ্লেষকরা। কিন্তু ১৭ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৫৫ লাখ ব্যারেল করে মজুদ বেড়ে প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পণ্যটির মজুদ বৃদ্ধি আগামীতে চাহিদা কমে যাওয়ার ইংগিত দিচ্ছে। কারণ নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন জ্বালানি তেলের বাজারকে এরই মধ্যে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ সংঘবদ্ধ হয়েছে। গত মাসে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে সরবরাহ করবে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে মজুদ থেকে সরবরাহ বাড়াচ্ছে।










