২০২১-২২ মৌসুমে কফির বৈশ্বিক ব্যবহার মোট উৎপাদনকেও ছাড়িয়ে যাবে। ফলে বছরান্তে পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক মজুদে ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় কফি। শুধু পানীয়ই নয়, কফি ধীরে ধীরে আধুনিক সভ্যতার মানুষের জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন, সব ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় এ পানীয়। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা কফির ওপর নির্ভরশীল। ফেয়ারট্রেড ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত গ্রীষ্মকালীন পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম কফি।
কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কায় গত মৌসুমে বিপর্যয় নেমে আসে কফির বিশ্ববাজারে। উৎপাদন, দৈনন্দিন ব্যবহার ও সরবরাহ, সব খাতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে পণ্যটি। তবে চলতি বছর থেকে ধীরে ধীরে কফির চাহিদা ও ব্যবহারের হার বাড়ছে। যদিও সে তুলনায় উৎপাদন খাত এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরো কমতে পারে বলে মনে করছে ইউএসডিএ। ফলে কফির বৈশ্বিক মজুদ ঘাটতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ইউএসডিএ ‘কফি: ওয়ার্ল্ড মার্কেটস অ্যান্ড ট্রেড’
শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ২০২১-২২ মৌসুমে কফির ব্যবহার গত মৌসুমের তুলনায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) বাড়বে। বছর শেষে মোট ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ব্যাগে। এর বিপরীতে উৎপাদন গত মৌসুমের তুলনায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যাগ কমে ১৬ কোটি ৪৮ লাখ ব্যাগে নেমে আসবে। উৎপাদনের তুলনায় ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় মজুদে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেবে। ইউএসডিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে কফির বৈশ্বিক মজুদ ৩ কোটি ২০ লাখ ব্যাগ কমবে, যা ২০১৭ সালের পর সর্বনিম্ন।
বাজার পরিস্থিতি বলছে, আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে সেজন্য প্রধানত দায়ী ব্রাজিল। ভয়াবহ খরা পরিস্থিতির কারণে আবাদ ব্যাহত হওয়ায় দেশটির কফি উৎপাদন কমবে।
ইউএসডিএ জানায়, চলতি মৌসুমে (জুলাইয়ে শেষ হবে) ব্রাজিলে উৎপাদিত হয় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ব্যাগ কফি। কিন্তু আগামী মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ কমে ৫ কোটি ৬৩ লাখ ব্যাগে নেমে আসবে। অন্যদিকে ব্রাজিলের স্থানীয় বাজারে কফির চাহিদা বেড়ে ২ কোটি ৩৭ লাখ ব্যাগে উন্নীত হবে। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কমে গেলে প্রভাব পড়বে রফতানিতেও। আগামী মৌসুমে ব্রাজিলের কফি রফতানির পরিমাণ ৯০ লাখ ব্যাগ কমে ৩ কোটি ২০ লাখ টনে নেমে আসবে। এদিকে বছরান্তে দেশটির মজুদ কমে ১৫ লাখ ব্যাগে ঠেকবে। মার্কিন সংস্থাটি জানায়, বৈশ্বিক কফি উৎপাদনে দ্বিতীয় ভিয়েতনাম। আগামী মৌসুমে দেশটি ৩ কোটি ৮ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদন করবে। গত মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন বাড়বে ১৮ লাখ ব্যাগ। এক্ষেত্রে তৃতীয় শীর্ষ উৎপাদক দেশ কলম্বিয়ার উৎপাদন কমবে।
সূত্র:
দ্য বিজনেস টাইমস, ওয়ার্ল্ড কফি পোর্টাল ও ইনসাইডার মাংকি










