পেঁয়াজের এলসি খোলা নিয়ে জটিলতা কেটে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় ও ক্রেতা সংকটে আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৬-৮ টাকা। দাম কমায় খুশি বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দর দিয়ে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত। বর্তমানে বন্দরে ইন্দোর জাতের ছোট আকারের পেঁয়াজ ২৯-৩০ টাকা কেজি, যা দুদিন আগে ছিল ৩৫-৩৬ টাকা। এছাড়া একই জাতের বড় আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩১ টাকা দরে, যা আগে ছিল ৩৮-৩৯ টাকা।

হিলি স্থলবন্দরে আসা পাইকার সিদ্দিক হোসেন বলেন, ব্যাংক নাকি এলসি দিচ্ছিল না, এতে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি একেবারে কমে গিয়েছিল। এতে দাম হু হু করে বাড়ছিল। বর্তমানে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় দাম কমে এসেছে। কিন্তু মোকামে এখনো চাহিদা তৈরি না হওয়ায় আমাদের ব্যবসা সেভাবে শুরু হয়নি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, ভারতের বেঙ্গালুরু অঞ্চলে বন্যার কারণে ভারতের বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। বর্তমানে পেঁয়াজ সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমতির দিকে। এছাড়া গত সপ্তাহে ডলার সংকটে ব্যাংকগুলো কয়েকদিন পেঁয়াজের এলসি না খোলায় বন্দর দিয়ে পুরনো এলসির বিপরীতে অল্প পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছিল। বর্তমানে ব্যাংকগুলো শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে এলসি দেয়া শুরু করেছে, এতে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা বাড়ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত, তবে আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিকে বন্দর দিয়ে আমদানি কমে ১০-১৫ ট্রাকে নামলেও শেষের দিকে তা বেড়ে ১৫-২০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। পেঁয়াজ কাঁচাপণ্য, এটি গরমে দ্রুত পচে নষ্ট হয়ে যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ কাঁচাপণ্যের জন্য সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। এজন্য তাদের জন্য আলাদা স্ট্যাগসহ ওপেন ইয়ার্ড শেড করা হয়েছে। আলাদাভাবে শ্রমিক রাখা হয়েছে, যাতে কাঁচাপণ্য দ্রুত খালাস করে নিতে পারেন আমদানিকারকরা। কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে যেন দ্রুত এসব পণ্য বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারেন আমদানিকারকরা। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। বন্দর দিয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ১৭টি ট্রাকে ৪৮১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বন্দর দিয়ে ছয় কর্মদিবসে ৯৩টি ট্রাকে ২ হাজার ৪৫৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।