টিকটকের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের তৈরি ভিডিওতে ডিজনির বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শোয়ের দৃশ্য ব্যবহার করতে পারবেন। সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হওয়া নতুন চুক্তির আওতায় এ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

চুক্তিটির ফলে ‘স্টার ওয়ার্স’, ‘টয় স্টোরি’ ও ‘মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স’-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির ভিডিও ক্লিপ বা জনপ্রিয় দৃশ্য এখন থেকে টিকটকে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে এসব ভিডিও ডিজনির নিজস্ব সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্লাটফর্ম ভার্টসেও শেয়ার করা হবে। নতুন সেবাটি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চালু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে দেয়া হবে।

ডিজনি বা টিকটক কোনো পক্ষই চুক্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করেনি। এর আগে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের সঙ্গে ডিজনির ১০০ কোটি ডলারের (প্রায় ৭৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড) একটি বড় চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। ওই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে ডিজনির চরিত্রগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেয়া।

কিন্তু গত মার্চে এআই ভিডিও তৈরির টুল ‘সোরা’ বন্ধ করে দেয় ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ব্যবসার অন্যান্য জায়গায় জোর দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ডিজনির সঙ্গে চুক্তিটি বাতিল হয়। এর পরই টিকটকের সঙ্গে নতুন বিকল্প চুক্তিতে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় ডিজনি।

ডিজনির চিফ মার্কেটিং অ্যান্ড ব্র্যান্ড অফিসার আসাদ আয়াজ বলেন, ‘বর্তমানে ভক্ত এবং দর্শক একেবারেই নতুন উপায়ে আমাদের গল্পগুলো উপভোগ ও উদযাপন করছেন।’

সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ম্যাট নাভারা এ বিষয়ে বলেন, ‘ডিজনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়েকটি বিনোদন ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক। কিন্তু বর্তমানে বিনোদন জগতে মানুষের নজর আকর্ষণের মূল ক্ষমতা ক্রিয়েটরদের হাতে চলে যাচ্ছে।’ তিনি আরো যোগ করেন, হলিউড এতদিন সরাসরি দর্শককে লক্ষ্য করে নিজেরা প্রচারণা চালাত। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। এখন ভক্তরা নিজেরাই কনটেন্ট বানিয়ে প্রচারণা চালাতে পারে। এটি বাজারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন।’

টিকটক জানায়, গত বছর প্লাটফর্মে চলচ্চিত্র ও টিভি শো সম্পর্কিত পোস্টের সংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ। কিন্তু এতদিন অনুমতি না থাকায় কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায়ই সে ভিডিওগুলো মুছে ফেলা হতো। ফলে কোনো বড় সিনেমা বা শো মুক্তির পর ভক্তদের তৈরি কনটেন্ট খুব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে পারত না।

ম্যাট নাভারা বলেন, ‘চুক্তিটির মাধ্যমে টিকটকও বেশ লাভবান হবে। হলিউডের একটি শীর্ষস্থানীয় স্টুডিওর আনুষ্ঠানিক পরিবেশক হওয়ার মাধ্যমে টিকটকের ব্যবসায়িক আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বাড়বে। পাশাপাশি টিকটকের নিজস্ব অ্যালগরিদম যেকোনো চরিত্র বা পুরনো কোনো সিনেমাকে রাতারাতি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে তোলার ক্ষমতা রাখে।’

ডিজনি ও টিকটক যৌথভাবে জানায়, নতুন এ প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত কিছু ক্রিয়েটরের ভিডিও সরাসরি প্রমোট করা হবে। একই সঙ্গে তাদের বিভিন্ন এক্সক্লুসিভ ইভেন্ট বা বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে।