অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ইরাকের প্রধান রফতানি পণ্য। মূলত জ্বালানি পণ্যটির রফতানি আয় দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে গভীর সংকটে পড়েছে ইরাকের জ্বালানি তেল রফতানি খাত। গত এপ্রিলে জ্বালানি পণ্যটি রফতানি থেকে দেশটির আয় আগের মাসের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরপতনের জের ধরে ইরাকের রফতানি আয় কমতির দিকে রয়েছে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর এ সময়ে বিদ্যমান পরিস্থিতি দেশটির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

ইরাকের জ্বালানি তেলবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। এ সময় জ্বালানি পণ্যটি রফতানি করে দেশটি মোট ১৪২ কোটি ডলার আয় করেছে। চলতি বছরের মার্চে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করে ইরাক ২৯৮ কোটি ডলার আয় করেছিল। সেই হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানি পণ্যটি রফতানি বাবদ দেশটির আয় কমেছে ১৫৬ কোটি ডলার। এর মধ্য দিয়ে গত মাসে দেশটিতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ ডলার ৮০ সেন্টে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজভুক্ত (ওপেক) দেশগুলোর মধ্যে ইরাক জ্বালানি পণ্যটির দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক। গত মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রেকর্ড দরপতন ইরাকের এ সংকটের পেছনে দায়ী বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে দেশে দেশে টানা লকডাউন চলায় চাহিদা কমে গিয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে। একই সঙ্গে ক্রমহ্রাসমান চাহিদার বিপরীতে উত্তোলনে লাগাম না টানাও জ্বালানি পণ্যটির দরপতনের বড় একটি কারণ।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য ফিরিয়ে দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছে পণ্যটির উত্তোলক ও রফতানিকারক দেশগুলো। ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর সহযোগিতামূলক সম্পর্কের আওতায় গত মাসে ইরাক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তিতে সই করেছে। ১ মে থেকে কার্যকর হওয়া এ চুক্তির আওতায় ওপেক-নন ওপেক দেশগুলো সম্মিলিতভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক উত্তোলন ৯৭ লাখ ব্যারেল কমাবে। চুক্তির শর্ত মেনে ইরাক জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক উত্তোলন কমাবে ১০ লাখ ব্যারেলের কিছু বেশি।

ফলে উত্তোলন কম হওয়ায় আগামীতে দেশটি থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি ইরাকের রফতানি আয় কমিয়ে দিতে পারে। ফলে করোনা সংকটের মধ্যে দেশটির অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।