বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, স্বাস্থসেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, খাদ্য ও কৃষিপণ্যে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যু এবং জি২০ সম্মেলনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও ব্রাজিল একসঙ্গে কাজ করবে।
গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এবং ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি মিন্টু রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বর্তমান চেয়ার হিসেবে জি২০ সম্মেলনে ব্রাজিলের অগ্রাধিকার দেয়া খাত’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।
এফবিসিসিআই আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাউরো ভিয়েরা বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের উর্বর ভূমি। দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে উভয় দেশ। এক্ষেত্রে এফটিএ, পিটিএর মতো বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি এ প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করবে। বিগত দশকে বাংলাদেশে লজিস্টিকস, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণের সুযোগকে উন্মোচিত করেছে। ব্রাজিল ও বাংলাদেশের পরস্পরের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে চাই।’ এ সময় বাংলাদেশে মাংস, গমসহ কৃষিপণ্য রফতানির আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। ব্রাজিল বাংলাদেশে তুলা রফতানি করে। যেটি বাংলাদেশ ও ব্রাজিল উভয়ের জন্যই একটি ইতিবাচক বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, সম্ভাব্য খাতগুলো চিহ্নিতকরণ, বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, মসৃণ বাণিজ্য লেনদেনের সহজতর উপায় অন্বেষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ সেমিনার ও বিটুবি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্বাধীনতার পর থেকেই। দেশটি থেকে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের কাঁচামাল তুলা আমদানি হয়। এছাড়া চিনিসহ বহু পণ্যের বাণিজ্য রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। আমি মনে করি আগামীতে বাংলাদেশে ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলের ব্যবসায়ীরা এখানে বিনিয়োগ করলে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের বাজারও ধরতে পারবে। তাই আমি ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য উদার আহ্বান জানাই।’
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হলো তৈরি পোশাক। বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক সংগ্রহ করে। অন্যদিকে ব্রাজিল গুণগত মানের তুলা উৎপাদনের জন্য বিশ্বনন্দিত। সুতরাং বস্ত্র খাতে উভয় দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা বিপুল। একইভাবে ব্রাজিলের বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এবং বাংলাদেশের শক্তিশালী ওষুধ শিল্পের সমন্বয়ে দেশ দুটি সাশ্রয়ী ও গুণগত স্বাস্থসেবা এবং ওষুধ পেতে পারে। এছাড়া কৃষিতে ব্রাজিলে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
ব্রাজিল থেকে প্রাণিজ আমিষ, ইথানল, অপরিশোধিত চিনি, গো-মাংস, তুলা, ভেজিটেবল অয়েলসহ নিত্যপণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে বলে জানান মাহবুবুল আলম। এজন্য দুই দেশের মধ্যে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরাসরি নৌপথ রুট চালুর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের খরচ ও সময় কমিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে প্রায় ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে রফতানির পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। এমন পরিস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের বিকাশমান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ব্রাজিলের সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহবুবুল আলম।










