দেশে পাম অয়েলের বাজার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—এ তিনটি দেশ পাম অয়েল আমদানির সবচেয়ে বড় ও নির্ভরযোগ্য উৎস। ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু তুলনামূলক কাছাকাছি হওয়ায় দেশেই পাম ফল চাষ ও তা থেকে পাম অয়েল উৎপাদন করা সম্ভব কিনা এটা নিয়ে অনেকেই ভেবেছেন। এমন ভাবনা থেকে ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে কিছু চারা দেশে এনে বাণিজ্যিকভাবে পাম চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে ওই উদ্যোগ খুব একটা আশার আলো দেখেনি।

পরবর্তী সময়ে ২০১২ সাল থেকে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফরিদপুর, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পাম চাষের আরেকটি উদ্যোগ নেয়া হয়। এর আওতায় বাগেরহাটের অনেক চাষী তাদের জমিতে পাম গাছ লাগান। গাছে ফলও এসেছে ভালো। তবে ফল বিক্রি নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।

সংকটের মূল কারণ উৎপাদিত ফল বিক্রি না হওয়া। মূলত পাম চাষ করা হলেও দেশে এখনো পাম অয়েল তৈরি কিংবা প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়নি। এ কারণে চাষীরা উৎপাদিত পাম ফল বিক্রি করতে পারছেন না। ক্রেতা না থাকায় আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তায় পাম ফল বিক্রির আশা করছেন তারা।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত পাম চাষীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছে। বলা হয়েছে, সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।