দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০৩০ বিদ্যুৎ পরিকল্পনা অনুমোদন দিল ভিয়েতনাম। পরিকল্পনা অনুসারে, নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গ্রিড স্থাপনের জন্য ১৩ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করা হবে। তৈরি করা হবে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ। সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছে দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয়। খবর নিক্কেই এশিয়া।

নতুন পরিকল্পনাটি পিডিপি৮ নামে পরিচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এটি। পাশাপাশি কার্বননির্ভরতা কাটিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বনমুক্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন ও সংশোধন জটিলতার কারণে পরিকল্পনা অনুমোদন দিতে দুই বছরেরও বেশি দেরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিনের স্বাক্ষর দেয়ার আগ পর্যন্ত খসড়া সংশোধিত হয়েছে এক ডজনেরও বেশিবার। 

সম্প্রতি সবুজ সংকেত পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এটি বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা থাকল না। ডিসেম্বরে উত্থাপিত প্রস্তাবে ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করার কথা বলা হয় জি৭ দেশগুলোর মাধ্যমে। সেখানকার অর্ধেক বিনিয়োগ আসার কথা সরকারি খাত থেকে, বাকি অর্ধেক অবদান বিভিন্ন বেসরকারি খাত থেকে। সে বিবেচনা থেকেই কয়েক মাস ধরে তহবিল বরাদ্দকরণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক বিষয়াদি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষ এগিয়েছে বিনিয়োগ গঠনে।

জি৭ দাতা গ্রুপের পক্ষ থেকে অনুমোদন পাওয়াটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল প্রকল্পটির জন্য। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য প্রকল্প চালু করার কৌশলে সহযোগিতার স্বীকৃতি আদায় করে আনা। যদিও বিষয়টি পুরোপুরিভাবে জি৭-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মেলে না। 

কূটনীতিকরা মনে করেন, এতকিছুর পরও দেশটি কয়লার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে এ দশকজুড়েই। যদিও দেশটি কয়লানির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা ও কার্বনমুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২০৫০ সাল পর্যন্ত। সরকার মনে করে, ৬৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে এক দশকের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার এক-পঞ্চমাংশ পরিবর্তন সম্ভব হয়ে উঠবে। 

শিল্পমন্ত্রীর সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নতুন পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের অর্ধেক বাড়ি ও অফিস সৌরবিদ্যুতের আওতায় আসবে। রফতানিযোগ্য নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে দেশের অভ্যন্তরেই। যদিও বিবৃতিতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও লক্ষ্যমাত্রা পৌঁছানো নিয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তবে চলতি বছরের ১০ মে প্রকাশিত খসড়া অনুসারে, ২০৩০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫৮ গিগাওয়াটে উত্তীর্ণ হবে। যেখানে ২০২০ সালে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ৬৯ গিগাওয়াট। 

অভ্যন্তরীণ গ্যাস ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবহারে আগামী দিনগুলোতে প্রাধান্য দেবে ভিয়েতনাম। ব্যবহার করা হবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো। দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ আসবে এ খাত থেকেই। এছাড়া কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থাকবে ১৯ শতাংশ ও জলবিদ্যুৎ থাকবে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম প্রধান দুই উৎস বায়ু ও সূর্যকেও ব্যবহার করা হবে সফলভাবে। বায়ু থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রত্যাশিত হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও সৌরশক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের হার ১৩ শতাংশ। তবে অনুমোদন-পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।