ভারতে ১ এপ্রিল নতুন অর্থবছর শুরু হয়। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (এপ্রিল-আগস্ট) দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মসলাপণ্যের সম্মিলিত রফতানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। করোনা সংক্রমণের কারণে বড় একটা সময়জুড়ে লকডাউন চলমান থাকার পরও এ সময় দেশটি থেকে শুকনা মরিচ, জিরা, আদা, ধনিয়া, ছোট এলাচ, হলুদসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় পৌনে ছয় লাখ টন মসলাপণ্য রফতানি হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ভারতের রফতানি পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম মসলা। সম্প্রতি প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের এপ্রিল-আগস্ট সময়ে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭০ হাজার টন মসলাপণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের এপ্রিল-আগস্ট সময়ে ভারত থেকে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১২০ টন মসলাপণ্য রফতানি হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে মসলাপণ্যের রফতানি বেড়েছে ৭৫ হাজার ৮৮০ টন।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মসলাপণ্য রফতানি করে ভারতীয় রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ১০ হাজার ১ দশমিক ৬১ কোটি রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) আয় করেছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে মসলা রফতানি বাবদ তাদের এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৫৮ দশমিক ৬ কোটি রুপি।

গত এপ্রিল-আগস্ট সময়ে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টন শুকনা মরিচ রফতানি হয়েছে। আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭৬ কোটি রুপিতে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে একক মসলা হিসেবে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি শুকনা মরিচ রফতানি হয়েছে।

একই সময়ে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন জিরা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। মসলাটি রফতানি করে এ সময় ভারতীয় রফতানিকারকরা ১ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৭০ কোটি রুপি আয় করেছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরের এপ্রিল-আগস্ট সময়ে ভারত থেকে ছোট এলাচ রফতানিতে সবচেয়ে বেশি ২৯৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। এ সময় দেশটি থেকে মোট ১ হাজার ৩০০ টন ছোট এলাচ রফতানি হয়েছে। আয় হয়েছে ২২১ দশমিক ৫০ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৪০০ টন ছোট এলাচ রফতানি হয়েছিল। পণ্যটি রফতানি করে ভারতীয় মসলা রফতানিকারকদের আয় হয়েছিল সাকল্যে ৫৫ দশমিক ৬৯ কোটি রুপি।