২০২৩ সালের তৃতীয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ব্যয় অপরিবর্তিত ছিল। এ সময়ে বিভিন্ন পরিষেবায় খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই নাগরিক পর্যায়ে পণ্য ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির চাপে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদহার বাড়াতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি দেশটিতে চলমান শক্তিশালী উচ্চমূল্যস্ফীতিতে কিছুটা অবনমন হয়েছে। কেননা প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে পারিশ্রমিক বেড়েছিল। শক্তিশালী শ্রমবাজারের কারণে বেসরকারি খাতে বেতন অর্জন কিছুটা বেড়ে যাওয়াই এর কারণ। যেহেতু অর্থনীতি কিছুটা নিম্নমুখী, ধারণা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাশিত সুদহার বাড়ার যে চক্র তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে। ১৯৮০ সালের পর এবারই সবচেয়ে দ্রুতগতিতে সুদহার বাড়ল।

সম্প্রতি অর্থনৈতিক বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে কঠোর সুদ পরিস্থিতি চলতি বছরে আরো বেশি মন্দার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফেডারেল সরকারের ৩১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঋণমাত্রা নির্ধারণ করার হার অর্থনীতিতে আরো ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ডালাসের কমেরিকা ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিল অ্যাডামস বলেন, ‘‌ফেড এখন খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতি ঠাণ্ডা হয়ে আসছে কিন্তু মূল্যস্ফীতি এখনো অনেক বেশি। মূল্যস্ফীতির যেসব উপাদান নিয়ে ফেড দুশ্চিন্তার মুখে পড়ে সেগুলো আরো বেশি স্থায়ী হবে। শ্রমভিত্তিক পরিষেবা আরো বেশি কঠিন হবে।’ এ সময়ে বিভিন্ন পরিষেবায় খরচ বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। তার মধ্যে আবাসন, পরিষেবা ও স্বাস্থ্যসেবায় খরচ বেড়েছে অনেক বেশি। ফলে বিভিন্ন পণ্যে ব্যয় কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ। আগের তুলনায় যানবাহন বিশেষ করে হালকা ট্রাক কেনার ক্ষেত্রে খরচ অনেক কমে গেছে। গ্যাসোলিনের দাম কমে যাওয়ার কারণেও বিভিন্ন পণ্যে খরচ কমেছে।

রয়টার্স পরিচালিত জরিপে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস জানিয়েছেন, ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাবে দশমিক ১ শতাংশ। এ তথ্যে প্রথম প্রান্তিকের মোট দেশজ উৎপাদনও অন্তর্নিহিত ছিল। সেখানে দেখা গেছে বার্ষিক হারে ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেড়েছিল ১ শতাংশ হারে।

গত মাসে ভোক্তা ব্যয় কিছুটা নিম্নমুখী থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভোক্তা ও মোট অর্থনীতি বেশ নিম্ন প্রবৃদ্ধির পথে ছিল। স্ন্যাপ মূলত স্বল্প আয়ের মানুষদের খাবার কেনার ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য ফুড স্ট্যাম্প হিসেবে পরিচিত। কমার্স ডিপার্টমেন্টের সেনসাস ব্যুরোর গবেষকরা পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, বাড়তি মুনাফার সমাপ্তির কারণে ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ কম কম মাসিক স্ন্যাপ পেমেন্ট পাচ্ছে। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, চারজনের পরিবারের যেখানে মাসিক আয় ২ হাজার ডলার তারা এখন প্রতি মাসে ফুড স্ট্যাম্পে ৬০০ ডলার কম পাচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিটের স্টক অনেক বাড়ছে। বেশকিছু মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। ফেডের ধারণা, পরের সপ্তাহে সুদহার আরো ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পলিসি রেট গত বছরের মার্চের পরে ৪৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে।

যদিও মূল্যস্ফীতি ধীরে স্থির হচ্ছে তারপরও তা বাড়তির দিকেই। ব্যক্তিগত ভোক্তা ব্যয় (পিসিই) প্রাইস ইনডেক্স মার্চে বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ, গত বছরের জুলাইয়ের পরে এটা সবচেয়ে কম বৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারিতে এর হার ছিল দশমিক ৩ শতাংশ। মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে পিসিই প্রাইস ইনডেক্স বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২১ সালের মে মাসের পরে এটাই সবচেয়ে কম বৃদ্ধি এবং ফেব্রুয়ারিতে তা বাড়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।