কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই জ্বালানি স্থানান্তর সম্পন্ন করতে চায় দেশটি। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর এ লক্ষ্য পূরণে ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন র্যান্ড প্রয়োজন হবে। মূলত স্থানান্তর প্রক্রিয়া ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্যই এ অর্থ ব্যয় করা হবে। মিসরের শারম-আল-শেখে শুরু হওয়া কপ২৭ জলবায়ু সম্মেলনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
গত বছর কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে ধনী রাষ্ট্রগুলো আফ্রিকার সবচেয়ে শিল্পায়িত রাষ্ট্রকে ৮৫০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বলা হয়েছিল, কয়লাভিত্তিক জ্বালানিনির্ভরতা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বের হতে এ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। কারণ শিল্পভিত্তিক দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশের জন্য ব্যবহার হয় কয়লা।
গত শুক্রবার এ-সংক্রান্ত একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সাইরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্বালানি স্থানান্তরের লক্ষ্য পূরণে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা ধনী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত অর্থের চেয়ে অনেক বেশি। এ বছরের কপ২৭ জলবায়ু সম্মেলনে বার্তাটি সবার সামনে তুলে ধরা হবে।
তহবিলের বাড়তি অর্থ কোথা থেকে জোগাড় করা হবে সে বিষয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ দেড় ট্রিলিয়ন র্যান্ডের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ব্যয় হবে বিদ্যুৎ খাতের অর্থায়নে। ১২ হাজার ৮০০ কোটি র্যান্ড ব্যয় হবে জ্বালানি সাশ্রয়ী যানবাহন ও ৩১ হাজার ৯০০ কোটি র্যান্ড খরচ হবে পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেনের জন্য।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেনশিয়াল ক্লাইমেট ফাইন্যান্স টাস্ক টিমের প্রধান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এ পরিকল্পনায় এখনো ৭০ হাজার কোটি র্যান্ডের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিকল্পনা প্রকাশের মাধ্যমে মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলো। বিশেষ করে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর দিকে। যাদের শিল্প খাতের নিঃসরণ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
যদি দক্ষিণ আফ্রিকার এ পরিকল্পনা সফল হয় তাহলে এটি গোটা বিশ্বের জন্য মডেল হিসেবে পরিণত হবে, যা দেখে কয়লানির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার যুদ্ধে শামিল হতে পারবে।










