আয়কর সেবা মাসের সময় দুই মাস বৃদ্ধি ও সেবা নিতে রিটার্ন দেয়ার বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্র বাড়ানো এবং নতুন আয়কর আইন প্রণয়নসহ নানা পদক্ষেপ নেয়ার পরও বাড়েনি কাঙ্ক্ষিত আয়কর রিটার্ন জমার পরিমাণ। সেবা মাস শেষে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন) নিয়েছেন ৯৯ লাখ ৭২ হাজার জন। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৪০৬টি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংস্থাটির দেয়া তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের সেবা মাস শেষে আয়কর রিটার্ন জমার পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৬৬১টি। সে হিসাবে চলতি অর্থবছর জমার সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৫ লাখ ১১ হাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৮০ লাখ রিটার্ন জমার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। সেবা মাস শেষে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন আসেনি। অন্যদিকে এনবিআর নানাবিধ পদক্ষেপ নিলেও সেগুলো যথার্থ হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় আয়কর সেবা মাস। দুই মাস মেয়াদ বাড়ানোয় ৩১ জানুয়ারি সেবা মাস শেষ হয়। এ সময় চলতি অর্থবছরের সেবা মাসে এনবিআরের আয়কর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৭৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের সেবা মাসে যা ছিল ৪ হাজার ৮৯৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা রিটার্ন জমার সংখ্যা ৮০ লাখ করতে কাজ করছি। যে রিটার্ন জমা হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট না। আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী বিশাল একটি ঘাটতি রয়েছে। তবে এনবিআর এ সংখ্যা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। জুনের মধ্যে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখতে পারব আমরা।’
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর বিভিন্ন সেবা নিতে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রের ক্ষেত্র বেড়েছে। এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই রিটার্ন জমা বেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এনফোর্সমেন্ট বাড়ানো উচিত। আমাদের পুরো ডাটাবেজটা ইন্টিগ্রেটেড করা উচিত, যাতে সহজেই এনবিআর দেখতে পারে কে রিটার্ন জমা দিয়েছে বা দেয়নি। এনবিআর আয়করের ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা কার্যকর হয়নি বলেনও জানান তিনি।
এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫১ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এ খাতে এনবিআরের ঘাটতি ৮ হাজার ৫৯২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। লক্ষ্য অর্জনে আগামী ছয় মাসে এ খাত থেকে এনবিআরের রাজস্ব আদায় করতে হবে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।










