পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ আমদানিতে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাসকরণ। এছাড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি নির্বিঘ্ন করতেও পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের ১০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন ও সুদের হার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থল ও নৌবন্দরগুলোয় আমদানীকৃত পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সে মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানীকৃত পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৌঁছানোর জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বিঘ্নে পেঁয়াজ পরিবহনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ভোমরা, সোনামসজিদ, হিলি ও বেনাপোল বন্দরে পেঁয়াজ আমদানি নির্বিঘ্ন করতে সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের ১০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা গতকাল থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর, দিনাজপুর, পাবনা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার বাজারগুলোয় তদারকি শুরু করেছেন। এছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসন থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া এলসির মাধ্যমে মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ বন্দরে খালাস শুরু হয়েছে।

পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় আছে এমন তথ্য উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, দেশে পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ট্রাক সেলে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। এতদিন ১৬টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা মূল্যে এ পেঁয়াজ বিক্রয় করা হলেও গতকাল থেকে ট্রাকের সংখ্যা ৩৫-এ উন্নীত করা হয়েছে। এতে করে স্বল্প আয়ের মানুষ ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ পাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, দেশে বছরে মোট পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ দশমিক ৩০ লাখ টন। এর ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ স্বাভাবিকভাবেই নষ্ট হয়। পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বছরে আমদানি হয়ে থাকে ৮-১০ লাখ টন। সে হিসাবে দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। দেশের পেঁয়াজসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর পাইকারি হাটবাজারে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ফলে সারা দেশের হাটবাজারে দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত। ফলে বাজারে দেশী ও আমদানীকৃত পেঁয়াজের সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই।

পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সহজ পরিবহনের কারণে সারা বছরই ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে এবার ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কিছুদিন আগে রফতানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) নির্ধারণ করে দিয়েছে। আগে প্রতি টন পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ছিল কমবেশি ২৫০ ডলার। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত কর্তৃক তা ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়। আর গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকালে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। মিয়ানমারের পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকেও এলসির ?