ভারতের জিডিপির পূর্বাভাস সংশোধন করেছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। নতুন প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের জিডিপি বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসে এটা ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। খবর দি ইকোনমিক টাইমস।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৫ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাংকের মানিটারি পলিসি কমিটি রেপো রেট (নীতি সুদহার) ৬ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরবিআইয়ের এক বৈঠকে গতকাল এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বৈঠকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের পেছনে বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের ক্রমাগত শক্তিশালী অবস্থান, শহুরে চাহিদার উল্লম্ফন, গ্রামীণ চাহিদার উন্নতি, ব্যাংক ও করপোরেট খাতের প্রবৃদ্ধি।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩-২৪ সালের জন্য প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক শূন্য শতাংশে পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৬ দশমিক শূন্য শতাংশে সংশোধন করা হয়েছে।

আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস গতকাল ঘোষণা করেন, ২০২৪-২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে আসল জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৫ ও তৃতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৩) সহনশীল ব্যয় এবং ব্যাপক চাহিদা উৎপাদন খাতকে সহায়তা করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে উৎপাদন খাতে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রভাবে। এছাড়া অক্টোবরে অর্থনীতির আটটি মূল খাতের সূচকের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে। যদিও চলতি বছরের জুন থেকে এটা শক্তিশালী অবস্থানে।

একটি বেসরকারি কোম্পানি পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী, উৎপাদন খাতের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) নভেম্বরে বেড়েছে। এছাড়া পরিষেবা খাতের উল্লম্ফন অব্যাহত।

গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, ‘‌২০২৩ সালের নভেম্বরে ১ দশমিক ৬৮ লাখ কোটি টাকা জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স) সংগ্রহ ছিল। পরিষেবা খাতের পিএমআই নভেম্বরে সম্প্রসারণ করেছে।’

জিডিপির আকার অনুযায়ী, এখন বিশ্বের প্রথম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির স্থানে আছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তিন নম্বরে জাপান। চতুর্থ জার্মানি। তালিকায় ভারতের স্থান পঞ্চম।