বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ওয়ার্ল্ডস্টিল)। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ সময় ধাতবপণ্যটির উৎপাদন হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে চীনের কম উৎপাদন। এছাড়া প্রধান বাজারগুলোয় অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বাণিজ্য ও জ্বালানি সংকটের কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত ও আফ্রিকার কিছু দেশ উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।
ওয়ার্ল্ড স্টিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের ৬৯টি দেশে মোট ১৪ কোটি ৪৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এ সময় এশিয়া ও ওশেনিয়ার দেশগুলোর মোট উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৭৩ লাখ টনে নেমে এসেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো ফেব্রুয়ারিতে মোট ১ কোটি ১ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ কম। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ৩৩ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
বিশ্বে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীন। দেশটিতে নির্মাণ খাতের কার্যক্রম কমেছে। চাহিদা নিম্নমুখী হওয়ার কারণে উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। ফেব্রুয়ারিতে চীনের উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৮৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
ফেব্রুয়ারিতে ইস্পাত উৎপাদনে জাপানের অবস্থান ছিল দ্বিতীয় শীর্ষে। তবে সম্প্রতি দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রফতানি কমেছে। এ কারণে গত মাসে উৎপাদন ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৬৪ লাখ টনে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এটি নিম্নমুখী হয়েছে ৭ শতাংশ। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও শিল্প খাতের দুর্বল চাহিদার কারণে তা ৬০ লাখ টনে নেমে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্য গত মাসে মোট ৩৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ সময় উত্তর আমেরিকার উৎপাদন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮২ লাখ টন হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও অন্যান্য সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ এবং ইউক্রেন ৬৭ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কম।
এদিকে ভারতে অবকাঠামো ও অটোমোবাইল শিল্পে ইস্পাতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে গত মাসে দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। মোট উৎপাদন পৌঁছেছে ১ কোটি ২৭ লাখ টনে। এ সময় আফ্রিকার দেশগুলোর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মোট ১৯ লাখ টন। এটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।










