চলতি বছরের এপ্রিলে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যাওয়া দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি হ্রাসের ক্ষেত্রে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া দেশটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকায় এক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

ইরান ওপেকের দ্বিতীয় শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী ও রফতানিকারক দেশ। জ্বালানি পণ্য বাজারের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে ইরান থেকে দৈনিক গড়ে ৭০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হয়েছে। মার্চে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানির পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ২ লাখ ৮৭ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি দৈনিক গড়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল কমে গেছে। গত এক দশকের মধ্যে এটাই পণ্যটির সর্বনিম্ন রফতানি।  

সুইজারল্যান্ডের পেট্রোলজিস্টিকের প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল গারবার বলেন, এপ্রিলে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি কমে গেছে, কারণ এ সময়ে দেশটি থেকে চীনের ব্যবসায়ীরা জ্বালানি পণ্যটির ক্রয় কমিয়েছে। শিগগিরই দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে দেশে দেশে লকডাউন দেয়া  হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্প খাতের কার্যক্রম স্থির হয়ে পড়ে। পরিবহন খাতে সীমা টানা হয়েছে। পণ্য আমদানি-রফতানিও সীমিত করে আনা হয়েছে। এর প্রভাব পড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে। এর জের ধরে বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল ভোক্তা দেশ চীন ও ভারতসহ পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদায় ধস নেমেছে। এদিকে চাহিদা কমে যাওয়ায় পরিশোধন কোম্পানিগুলো পণ্যটির ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ইরানের জ্বালানি তেল খাতে।

এছাড়া পরমাণু চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর মার্কিন  নিষেধাঞ্জা চলছে। দুই বছর ধরে দেশটির জ্বালানি তেল খাতের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছেন। ফলে দেশটির জ্বালানি তেলের শীর্ষ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে পণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, যা দেশটি থেকে জ্বালানি তেলের রফতানি ক্রমশ হ্রাসের অন্যতম কারণ।