নভেল করোনাভাইরাসের আর্থিক অভিঘাত বেশ ভালোই নাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি শেভরন করপোরেশনকে। মহামারীর মধ্যে চাহিদায় ধস নামায় মুনাফা কমেছে কোম্পানিটির। এ অবস্থায় ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যয়সংকোচন নীতি হাতে নিয়েছে তারা। আর এ পদক্ষেপের জেরে চাকরি হারাতে পারেন শেভরনের ১৫ শতাংশ কর্মী। কোন কর্মীর চাকরি থাকবে, আর কার থাকবে না—তা নির্ধারণের জন্য বিশ্বজুড়ে কোম্পানিটির সব কর্মীকে তাদের পদের জন্য পুনরায় আবেদন করতে বলা হয়েছে। তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করেই ছাঁটাইয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খবর রয়টার্স।
শেভরনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মাইকেল ওয়ার্থ সোমবার এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, কারা চাকরি হারাবেন, তা আবেদনপত্র পাঠানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই জানিয়ে দেয়া হবে। তবে কিসের ভিত্তিতে কর্মী ছাঁটাই করা হবে অথবা ঠিক কতজন কর্মীকে পুনরায় আবেদন করতে বলা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
সম্প্রতি টেক্সাস কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শেভরন জানিয়েছে, হিউস্টনে তাদের প্রায় ৭০০ কর্মী চাকরি হারাতে চলেছে। ২৩ অক্টোবর থেকে এ ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, চাকরি হারানো কর্মীরা বর্ধিত অংকের ক্ষতিপূরণ পাবেন এবং কোম্পানি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য দুই মাস সময় পাবেন। এদিকে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেসব কর্মীকে নতুন পদের জন্য বাছাই করা হবে না, তাদের বেশির ভাগকেই চলতি বছরের শেষ নাগাদ কোম্পানি ছেড়ে চলে যেতে হবে।
বিশ্বজুড়ে শেভরনের প্রায় ৪৫ হাজার কর্মী রয়েছে। অতিসম্প্রতি তেল ও গ্যাস কোম্পানি নোবল এনার্জি অধিগ্রহণের ফলে তাদের কর্মীসংখ্যা আরো বাড়বে। গত সপ্তাহেই ৪১০ কোটি ডলারের এ অল-স্টক অধিগ্রহণ চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। নোবল এনার্জিতে প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মী কাজ করে। শেভরনের কর্মী ছাঁটাই পরিকল্পনার ফলে নোবল এনার্জির কর্মীদের কপালে কী জুটবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। শেভরনের সিইও মাইকেল ওয়ার্থ বলেছেন, যেসব জায়গায় দুই কোম্পানির ব্যবসা ওভারল্যাপ হয়ে যাচ্ছে (যেমন ওয়েস্ট টেক্সাস শেলের কার্যক্রম অথবা প্রশাসনিক পদ), সেসব
জায়গায় কিছু কর্মী চাকরি হারাতে পারেন।
করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক স্থবিরতায় কেবল শেভরনই নয়, বরং বিশ্বের প্রায় সব জ্বালানি কোম্পানিই আর্থিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোকসান কমাতে তারা ব্যয়সংকোচনের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে। এ ব্যয়সংকোচনের অংশ হিসেবে কোম্পানিগুলো তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত সপ্তাহে রয়েল ডাচ শেল জানিয়েছে, তারা প্রায় নয় হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানিটির মোট জনবল হিসাব করলে এ সংখ্যা ১০ শতাংশের বেশি। এর আগে ব্রিটিশ বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি বিপিও প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।










