১৮৯৬ সালে এথেন্সে অনুষ্ঠিত হয় আধুনিক অলিম্পিক গেমসের প্রথম আয়োজন। সূচনা আসরের একটি রৌপ্য পদক নিলামঘরে ইতিহাস গড়তে চলেছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘অমূল্য ঐতিহাসিক রত্ন’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে। ডেনমার্কের নিলামঘর ব্রুন রাসমুসেন আগামী ১ মার্চ বিরল সংগ্রহটি নিলামে তুলবে। ধারণা করা হচ্ছে, নিলামে পদকটি ২৬ থেকে ৪৭ হাজার ৮০০ ইউরো দাম পাবে।
স্মারকটিকে এক অর্থে অলিম্পিকের পুনর্জাগরণের নিদর্শনও বলা যায়। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ১৮৯৬ সালে রৌপ্য পদকই ছিল সর্বোচ্চ পুরস্কার। ১৩০ বছর আগে এখনকার মতো পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক প্রচলিত ছিল না। তখন বিজয়ীরা পেতেন রৌপ্য পদক ও জলপাই ডাল। রানারআপরা পেতেন ব্রোঞ্জ পদক ও লরেল ডাল।
ব্রুন রাসমুসেনের মডেল বিভাগের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান গ্রুন্ডটভিগ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আধুনিক অলিম্পিক গেমসের সূচনা আসরের কোনো পদক আমরা নিলামে তুলছি। এত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সাধারণত কখনই উন্মুক্ত বাজারে দেখা যায় না।’
বিখ্যাত ফরাসি খোদাইশিল্পী জুল-ক্লেমেন্ট চ্যাপলিন নকশা করেছেন এ পদক। এক পাশে খোদাই করা হয়েছে দেবতা জিউসের হাতে ধরা বিজয়ের দেবী নাইকির চিত্র। অন্য পাশে রয়েছে এথেন্সের অ্যাক্রোপলিস।
সেবার অলিম্পিকে ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন, যাদের বেশির ভাগ ছিলেন গ্রিক। তাই এমন একটি পদকের টিকে থাকা ও বিক্রি হওয়া সংগ্রাহকদের জন্য তৈরি করেছে বিরল সুযোগ।
গেমস অব দ্য ফার্স্ট অলিম্পিয়াড নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত আয়োজনটিকে একাধিক কারণে আইকনিক বিবেচনা করা হয়। আসরটি ছিল পিয়ের দ্য কুবার্তের প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ১৮৯৪ সালে প্যারিস কংগ্রেসের পর প্রতিযোগিতার উৎপত্তিস্থলকে সম্মান জানাতে আয়োজক শহর হিসেবে এথেন্সকে বেছে নেয়া হয়।
মূল ভেন্যু ছিল বিশ্বের একমাত্র মার্বেলে নির্মিত পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম প্যানাথেনিয়াক। ব্যবসায়ী জর্জ অ্যাভারফের বড় অংকের অনুদানে গেমস উপলক্ষে স্টেডিয়ামটি সংস্কার করা হয়।
গেমসের কিংবদন্তিতুল্য মুহূর্তগুলোর একটি ছিল স্পাইরোস লুইসের পদক জয়। পেশায় পানি বহনকারী লুইস প্রথমবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যারাথনে বিজয়ী হন। তার জয় গ্রিসে জাতীয় ঘটনায় পরিণত হয় এবং ম্যারাথনকে অলিম্পিকের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
১৮৯৬ সালের গেমসে ছিল মাত্র নয়টি খেলা। অ্যাথলেটিকস, সাইক্লিং, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, শুটিং, সাঁতার, টেনিস, ভারোত্তোলন ও কুস্তি। কোনো নারী প্রতিযোগী ছিলেন না। অলিম্পিক শিখা ও অলিম্পিক রিংসের মতো ঐতিহ্যগুলো চালু হতেও আরো কয়েক দশক সময় লেগেছিল। খবর : গ্রিক রিপোর্টার










