ভারতের বিমানবন্দরগুলো যখন যাত্রী পদচারণায় মুখরিত, তখন একটি উড়োজাহাজ সংস্থার কাউন্টার একেবারে শূন্য। বিপর্যস্ত ওই উড়োজাহাজ সংস্থাটির নাম গো ফার্স্ট। গত সপ্তাহের শুরুতে হঠাৎ স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনসটি দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচার জন্য আবেদন করে এবং বেশ কিছুদিনের জন্য ফ্লাইট বাতিল করে দেয়। এ সময়ে এয়ারলাইনসটি তাদের গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় এবং উত্তেজিত যাত্রীদের ফোনে পরামর্শ দেয়ার জন্য এজেন্ট নিয়োগ করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গো ফার্স্টের ২০ জন লিজ গ্রহণকারী নিজেদের ডিরেজিস্টার করার কথা বলেছে ইন্ডিয়া এভিয়েশন রেগুলেটরের কাছে। বিমানসেবা খাতের এমন এলোমেলো অবস্থা ২০১৯ সালের স্মৃতিকেই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। তখন ভারতের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ দেউলিয়া হয়ে যায়। মাত্র চার বছরের মধ্যেই গো ফার্স্ট জেটের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। দ্য ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনাল গত বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির দেউলিয়াত্বের আবেদন গ্রহণ করে। এখন এয়ারলাইনসটি আদালতের মধ্যবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায়।
তবে গো ফার্স্ট জানিয়েছে, তাদের এমন দুর্ভোগ অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে নয়, বরং ইঞ্জিনের কারণে। নিজেদের দেউলিয়াত্বের আবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা কখনো একটি ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পার করেনি। বেশকিছু উড়োজাহাজ উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ঘোষণা করার জন্য এয়ারলাইনসটি যুক্তরাষ্ট্রের ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনিকে দায়ী করে। তাদের সরবরাহ করা ক্রমবর্ধমান ব্যর্থ ইঞ্জিনের কারণেই এমন চিত্র দেখা গেছে। ফলে পড়তে হয়েছে তীব্র অর্থ সংকটেও।
গো ফার্স্ট জানায়, তাদের ২৬টি উড়োজাহাজ উড্ডয়ন না করে বসিয়ে রাখা হয়। সংখ্যাটা তাদের চলাচল করতে থাকা এ৩২০এনইও প্লেনের অর্ধেক, ফলে মুনাফা ও খরচ কমে যায় ১০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি বা ১৩০ কোটি ডলার। এভিয়েশন অ্যানালাইটিকস ফার্ম সিরিয়ামের মতে, মে মাসে ৬ হাজার ২২৫টি ফ্লাইট চলাচল করানোর শিডিউল ছিল গো ফার্স্টের, তাতে সিট ছিল প্রায় ১১ লাখ।
এয়ারলাইনসটি একটি জরুরি আরবিট্রেটর সরবরাহের আদেশ অনুসরণ না করার জন্য দায়ী করেছেন প্র্যাট অ্যান্ড হুইনিকে। তাতে অন্তত ১০টি সার্ভিসেবল স্পেয়ার লিজড ইঞ্জিন সরবরাহ করার কথা ছিল ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিলের মধ্যে। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, কারণ তাদের মতে, পুরো বিষয়টা এখন বিচার বিভাগীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গো ফার্স্টের ৯০ শতাংশ উড়োজাহাজ এ৩২০এনইও, সেখানে প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।
স্পেয়ার পার্টস সহজলভ্য না থাকায় ২০২০ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ নামিয়ে রাখা হয়েছে এবং তৈরি করার সময় উড়োযানটির সঙ্গে না থাকা ইঞ্জিন সরবরাহে দেরি হওয়াও এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ। প্রায় অর্ধেক উড়োজাহাজ ব্যবহারের উপযোগী না থাকায় ফ্লাইট শিডিউলে বেশ প্রভাব পড়ে এবং বেশকিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ভারতের এভিয়েশন খাত দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা, অতিরিক্ত ঋণ ও বর্ধমান খরচের মধ্যে বেশকিছু এয়ারলাইনস উড্ডয়ন না করতে বা সংকোচন করতে বাধ্য হয়। তাদের কয়েকটি হলো জেট এয়ারওয়েজ, কিংফিশার এয়ারলাইনস, এয়ার ডেক্কান, প্যারামাউন্ট এয়ারওয়েজ ও এমডিএলআর এয়ারলাইনস। ছেড়ে যাওয়ার শিডিউল অনুযায়ী ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম এয়ারলাইনস ছিল গো ফার্স্ট। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, এয়ারলাইনসটির মালিক প্রতিষ্ঠান ওয়াদিয়া গ্রুপের পুরোপুরি হাল ছেড়ে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।










