১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবার দেশটিতে বছরে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে নামল। এতে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ আরো তীব্র হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।

এক বছরে জন্ম কমেছে ১১ শতাংশ

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে গত বছর মোট ২৯ হাজার ৮৬৪টি শিশু জন্ম নিয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে শিশু জন্মের সংখ্যা ছিল ৩৮ হাজার ৬৭২। চার বছরে তা কমেছে প্রায় ৮ হাজার ৮০০। অন্যদিকে ১৯৬৫ সালে দেশটিতে ৫৫ হাজার ৭২৪টি শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল।

প্রজনন হারে রেকর্ড পতন

বিশ্লেষকদের মতে, জন্মহার কমার প্রধান কারণ প্রজনন হার বা টিএফআর কমে যাওয়া। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী গান কিম ইয়ং জানান, ২০২৫ সালে প্রজনন হার কমে রেকর্ড দশমিক ৮৭-এ নেমেছে, যা আগের বছর ছিল দশমিক ৯৭। একজন নারী তার প্রজনন বয়সে গড়ে কতটি শিশু জন্ম দিতে পারেন, তা নির্দেশ করে এ হার।

সিঙ্গাপুরে প্রথমবার মা হওয়া নারীদের গড় বয়স এখন ৩২ বছর ১ মাস, দুই দশক আগে যা ছিল ২৯ বছর ২ মাস। বর্তমানে প্রথমবার মা হওয়া নারীদের ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট ও ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মজীবী।

আবাসন ব্যয় ও বয়োবৃদ্ধ সংখ্যা

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পরিবার গঠনে দম্পতিদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ আবাসন খরচ। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসনের দেশ সিঙ্গাপুরে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ির ভাড়া গড়ে দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিক সিঙ্গাপুরে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৫ সালে মোট ২৬ দশমিক ৪৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের বছরের তুলানায় দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতে চাপ

ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জেস্টার কো জানান, জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় বহুগুণ বাড়বে। অন্যদিকে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমায় প্রবীণদের সুরক্ষায় সরকারি বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে।

পরিস্থিতি সামলাতে বিবাহ ও সন্তান লালন-পালনবিষয়ক একটি বিশেষ ওয়ার্কগ্রুপ গঠন করেছে সিঙ্গাপুর সরকার।

২০২৭ সালের শুরুতে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা জমা দেয়া হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষের ঘাটতি মেটাতে ও অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।