গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি করেছে। তবে সুশাসন ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। তিনি গতকাল আইসিএবি, ডিএসই ও নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জবাবদিহিতা ও স্থায়িত্ব: বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড গভর্নমেন্টের একাডেমিক প্রোগ্রাম লিডার ড. ইয়ানকা মোজেস।
স্বাগত বক্তব্যে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টেকসই প্রতিবেদন ও নিশ্চয়তাকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নিরীক্ষা পেশা সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানে রয়েছে। আর্থিক হিসাব, প্রতিবেদন তৈরি, অভ্যন্তরীণ ও বহির্নিরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত পেশাদাররা এক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারেন।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শামসুল আলম বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গত ১৫ বছরে অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি করেছি। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হবে না যদি না আমাদের ভালো সুশাসন ব্যবস্থা না থাকে এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকে। বেসরকারি খাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের স্বার্থে তারা আরো যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশা করি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান টেকসই প্রতিবেদন শুরু করেছে। এক্ষেত্রে নিরীক্ষা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্তদের জন্য তাদের নেতৃত্বগুণ প্রদর্শনের পাশাপাশি এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু সম্মানিত অথিতির বক্তব্যে বলেন, ‘জবাবদিহি ও স্থায়িত্ব শব্দ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সংস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে এ দুটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’
প্যানেল আলোচনায় ডিএসইর এমডি ড. এটিএম তারিকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এখানে টেকসই প্রতিবেদন এখনো পরিপালন করা বাধ্যতামূলক নয় বরং ঐচ্ছিক। এ-সংক্রান্ত কোনো কাঠামো কিংবা গাইডলাইন এখনো তৈরি হয়নি। তবে আমরা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করছি।’
অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসূফ প্যানেল আলোচনায় বলেন, ‘শ্রম অধিকার বিষয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্মারকের কথা আপনারা সবাই জানেন। যদি আমরা উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারি এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার শ্রমমান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় তাহলে নিষেধাজ্ঞায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।’
রফতানির ক্ষেত্রে জিএসপি প্লাস সুবিধা, কোটা সুবিধা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে হলে আমাদের শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি পরিপালন করতে হবে।’
আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য সাব্বির আহমেদ প্যানেল আলোচনায় বলেন, ‘গত দুই দশকে আন্তর্জাতিক হিসাবমান ও আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি বিষয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবেশ, জলবায়ু ও স্থায়িত্বের মতো বিষয়গুলো যুক্ত হয়েছে। পেশাদার নিরীক্ষক হিসেবে নিরীক্ষা করার সময় আমাদের পেশাদারিত্বের চর্চা করতে হবে। নিরীক্ষক হিসেবে আমরা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারব।’
প্যানেল আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১১ সাল থেকে কাজ করছে। এ-সংক্রান্ত নীতি, বিধিমালা ও গাইডলাইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।’










