রাস্তার দুই পাশে বিনোদন পার্ক, দোতলা হোটেল আর ড্রাইভ-থ্রু ফাস্টফুডের দোকান।

শহরটির একটি পিৎজা হাট আউটলেটে ঢুকে কিছুটা বিষণ্ন পরিবেশ চোখে পড়ে। দেয়ালে ঝুলছে পুরনো টেলিভিশন। কাচের জানালায় জমেছে হলদেটে ভাব। ছাদে ঝুলানো পতাকায় লেখা ‘উই লাভ ইউএসএ’। এসির বাতাসে জাতীয় পতাকাগুলো যেন ক্লান্ত হয়ে দুলছে। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর মেলে খাবার।

পুরো দৃশ্যটিতেই যেন এক বিদায়ের সুর স্পষ্ট। মনে হয় দোকানটির আয়ু আর বেশিদিন নেই। বিষয়টি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একের পর এক পিৎজা হাটের শাখা এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ডমিনো’স, পাপা জনস ও লিটল সিজার্সের মতো প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা ও ক্রমাগত লোকসানের মুখে ব্র্যান্ডটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সম্প্রতি ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ২৭০ কোটি ডলারে পিৎজা হাট বিক্রি করেছে প্যারেন্ট কোম্পানি ইয়াম! ব্র্যান্ডস। ব্যবসায়িক চুক্তি অনুযায়ী, পিৎজা হাটের বৈশ্বিক ও চীন অংশের মালিকানা আলাদা দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাবে।

বহু দশক ধরে মার্কিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল পিৎজা হাট। আমেরিকানদের হৃদয়ে ব্র্যান্ডটির স্থান ছিল শক্ত। ফলে এর আজকের পতন একসময় ছিল একেবারেই অচিন্তনীয়।

খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু ১৯৫৮ সালে। কানসাস অঙ্গরাজ্যে ড্যান ও ফ্রাঙ্ক কার্নি নামের দুই ভাই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম পিৎজা হাটের দোকান খোলেন। ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রাথমিক মূলধন তারা ধার নিয়েছিলেন নিজের মায়ের কাছ থেকে।

কয়েক বছরের মধ্যেই কোম্পানির যুগান্তকারী ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ ব্যবসায়িক মডেল পুরো পিৎজার বাজার বদলে দেয়। পিৎজা হাটের লাল ছাদ হয়ে ওঠে ফাস্টফুড সংস্কৃতির আইকন। ম্যাকডোনাল্ডসের লোগোর মতোই এটি পরিচিতি পায় বিশ্বজুড়ে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসা।

তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের খাবারের পছন্দে পরিবর্তন এসেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। ফলে বছরের পর বছর গড়ে ওঠা ঐতিহ্য হারিয়ে ব্র্যান্ডটি এখন সংকটের মুখে পড়েছে।

ইয়াম! ব্র্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী ক্রিস টার্নার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পিৎজা হাটের ব্যবসায় মন্দা চলছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্র্যান্ডটির বিক্রি ক্রমাগত কমছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার পিৎজা হাটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোট আন্তর্জাতিক বিক্রির ৪০ শতাংশই আসে সেখান থেকে।

—বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে