চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হয়েছে জাপানের রফতানি। প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে দেশটির রফতানি। যদিও বিশ্লেষকরা ১০ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। দেশটির যানবাহন, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতির চাহিদা বৃদ্ধি এ রফতানি বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। খবর এপি নিউজ।
দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ১ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১ হাজার ২০০ কোটি ডলার) কমেছে। ঘাটতির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
দেশটির আমদানি গত এক বছরে মাসিক ভিত্তিতে কমেছে। আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬ হাজার কোটি ডলার) কমেছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও আকরিক লোহা আমদানি কমেছে। চাহিদা কমার কারণে এসব পণ্যের দামও কমেছে।
উত্তর আমেরিকা, এশিয়ার অন্য অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি বেড়েছে। অন্যদিকে বাকি সব অঞ্চল থেকে আমদানি কমেছে।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রফতানি হয়েছে মোট ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার)। টানা দুই মাস এ প্রবৃদ্ধির হার বজায় ছিল।
চীনে রফতানি ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে মূল ভুমিকা রেখেছে কম্পিউটার চিপ তৈরির সরঞ্জামের জোরালো চাহিদা বৃদ্ধি। যানবাহন রফতানি যুক্তরাষ্ট্রের মোট রফতানিতে ১৬ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়ায় সহায়তা করেছে।
এরই মধ্যে জাপানের অভ্যন্তরীণ পর্যটন সংখ্যা বেড়েছে, যা পরিসংখ্যানগতভাবে রফতানি হিসেবে গণনা করা হয়। মহামারীর-পরবর্তী বছরগুলোয় দেশটির পর্যটন সংখ্যা বাড়ছে। কভিডকালে দেশটি পর্যটকের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
২০২৩ সালে জাপানের রফতানি ১০০ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (৬৮ হাজার কোটি ডলার) রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশটির অর্থনীতি শ্লথ হয়ে যাওয়ার পরও রফতানি একটি শক্তিশালী পয়েন্ট হিসেবে রয়ে গেছে।
জাপান ২০২৩ সালে তার জিডিপির ভিত্তিতে জার্মানির থেকে পিছিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
দেশটি প্রযুক্তিগত মন্দার মধ্যেও পড়েছিল। এর অর্থনীতি অক্টোবর-ডিসেম্বরে টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংকুচিত হয়েছে। উচ্চ মূল্যের কারণে এরই মধ্যে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।










