এতে দেশটির বহু বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সরকারি এক মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান।
উত্তর সাগরের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়া এবং পুরনো অবকাঠামোর কারণে দেশটির গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সময়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে এ পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আগামী কয়েক দশকেও দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থায় গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চরম পরিস্থিতিতে এক দশকের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের কয়েক লাখ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ সংকট মোকাবেলায় দেশটির জরাজীর্ণ গ্যাস অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা ভাবছে সরকার।
দেশটির ন্যাশনাল এনার্জি সিস্টেম অপারেটরের এক সতর্কবার্তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের তিন-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা। সংস্থাটি গত বছর জানিয়েছিল, উত্তর সাগরের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। ফলে ২০৩০ সালের দিকে তীব্র শীতের সময় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের গ্যাসের মজুদ কম থাকা বা আমদানি টার্মিনাল ও পাইপলাইনে হঠাৎ সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। বেসরকারি খাতগুলো এ পরিস্থিতি একা সামাল দিতে পারবে না।
যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী মাইকেল শ্যাঙ্কস বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ বা সহায়তা হবে নজিরবিহীন পদক্ষেপ। তবে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কাজ চললেও এ পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ।’
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি পূরণ হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। গত পাঁচ বছরে ব্যবহৃত গ্যাসের প্রায় অর্ধেক এসেছে উত্তর সাগরের ক্ষেত্রগুলো থেকে। নরওয়ে সরবরাহ করেছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি। যদিও ২০৫০ সালের মধ্যে গ্যাসের ব্যবহার অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার চেয়েও দ্রুতগতিতে কমছে দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন।
উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস উৎপাদন প্রায় ২৫ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে কমছে। প্রতি বছর উৎপাদন আরো প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করছে সরকার। ফলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাই যুক্তরাজ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।










