এশিয়ার শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামিজ ও থাই চালের রফতানি মূল্য কমতে শুরু করেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

ভারত নন-বাসমতি সাদা চালের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর পরই আন্তর্জাতিক চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ে। আগস্টে ১৫ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছে শস্যটির বাজারদর। তার ওপর দেশটি ভাঙা চালের ওপর রফতানি শুল্ক আরোপ করলে আরো ঊর্ধ্বমুখী চাপে পড়ে বাজার। এমন পরিস্থিতিতে আমদানিকারক দেশগুলো নতুন করে চাল কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় ভিয়েতনাম ও থাই চালের বাজার নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। 

অন্যদিকে ভিয়েতনামিজ ও থাই চালের দাম কমায় ভারত থেকে আমদানি কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে  ভারতের চাল রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে ভারত প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ৫২৫-৫৩৫ ডলারে রফতানি করছে। টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এখনো দেশটির চালের দাম ৩১ আগস্টের রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ওইদিন প্রতি টনের রফতানি মূল্য ৫৪০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

আগস্টে আধা সেদ্ধ চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারত সরকার। পাশাপাশি নন-বাসমতি সাদা চাল রফতানি নিষিদ্ধ করে। এতে এশিয়াসহ বিশ্ববাজারে শস্যটির সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করে দাম। ক্রেতারা অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে ভারতীয় চাল আমদানি কমিয়ে দিলে দেশটির রফতানিকারকরা বিপাকে পড়েন। মুম্বাইভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, সাদা চাল রফতানি বর্তমানে নিষিদ্ধ। আর ২০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ক্রেতারা সেদ্ধ চাল কিনতে অনিচ্ছুক।

এদিকে ভিয়েতনামের ৫ শতাংশ ভাঙা চাল গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৬২০-৬৩০ ডলার। চলতি সপ্তাহে তা কমে ৬১০-৬২০ ডলারে নেমেছে। 

হো চি মিন সিটিভিত্তিক এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘সম্প্রতি ফিলিপাইন সরকার চালের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভিয়েতনামের বাজারে। ভিয়েতনামিজ চালের রফতানি মূল্য আরো কমতে পারে। তবে সরবরাহ স্বল্পতা ও ক্রেতাদের চাহিদার চাপ দরপতন কিছুটা সীমিত করতে পারে।’

তথ্যমতে, ১-২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হো চি মিন সিটি বন্দরে বিভিন্ন জাহাজে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২৫০ টন চাল লোড হয়েছে। এসব জাহাজের বেশির ভাগের গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও তুরস্কে।

চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে থাই মুদ্রা বাথের বিনিময় মূল্য ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। গত বুধবার ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে মুদ্রাটির দাম। এ কারণে দেশটির চালের রফতানি মূল্যও নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে।