অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভর দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে কয়েকটি পরিশোধন কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে না পারায় গত মাসে দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমতির দিকে ছিল। তবে এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি ৩২ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল বা সব মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ২ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি কমেছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। গত বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ কোরীয় আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছিলেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে যথাক্রমে সৌদি আরব, কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সৌদি আরব থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৪১ ব্যারেল বা সব মিলিয়ে ৩০ লাখ ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ কোরীয় আমদানিকারকরা সৌদি আরব থেকে সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছিলেন।
তবে সৌদি আরব থেকে কমলেও গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ সময় মার্কিন মুলুক থেকে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২৪৪ ব্যারেল বা সব মিলিয়ে ১৯ লাখ ২০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৯ সালের একই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণ কোরীয় আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছিলেন। আর গত মার্চে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৬ লাখ ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে গত এপ্রিলে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করেনি দক্ষিণ কোরিয়া।










