জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহ বীমা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির মালিকদের বীমা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে ৯ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো। এমনটাই জানানো হয়েছে মিউনিখ রে নামক পুনঃবীমা ফার্মের প্রতিবেদনে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
গত সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানা হারিকেন ইয়ান মোট ক্ষয়ক্ষতির প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী। ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) স্পষ্টভাবে বলেছে, মানুষের কার্যকলাপ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখেছে। ফলে বিশ্বব্যাপী চরম আবহাওয়াকেন্দ্রিক দুর্যোগ বেড়েছে। ফলে দুর্যোগগুলোর জন্য করা বীমা ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। ইন্স্যুরেন্স ইনফরমেশন ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গৃহ বীমার প্রিমিয়াম গত বছর গড়ে ৯ শতাংশ বেড়েছে।
ক্রমবর্ধমান প্রিমিয়ামের পেছনে প্রাথমিক চালিকাশক্তি হলো পুনঃবীমা ব্যয়, যা বছরে ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে। গৃহ পুনর্নির্মাণ উপকরণগুলোর ক্রমবর্ধমান ব্যয় পাঁচ বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। প্রধানত কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় এভাবে গৃহ নির্মাণ উপকরণের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় কারণগুলো জলবায়ু পরিবর্তন থেকে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ ক্যালিফোর্নিয়ায় বীমা প্রিমিয়ামগুলো গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে রয়েছে। গৃহ বীমা যদিও এটি বাড়ির মালিকদের উপকৃত করে, তবে এটি বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। যারা ক্রমবর্ধমান দুর্যোগের ক্ষতিপূরণে ব্যয় বহন করছে।
ফ্লোরিডার প্রিমিয়ামগুলো উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেখানে বাড়ির মালিকবান্ধব আইনগুলোয় বীমাকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ আছে। বাড়ির মালিকরা যখন ক্রমবর্ধমান বীমা ব্যয়ের সঙ্গে লড়াই করছেন, তখন বীমাবিহীন বাড়ির মালিকদের সংখ্যা প্রায় ৭ শতাংশে স্থিতিশীল। এটি মর্টগেজ হোল্ডারদের জন্য বাড়ির বীমা থাকার প্রয়োজনীয়তার কারণে কেবল যারা তাদের বাড়ির সম্পূর্ণ মালিক, তাদের জন্যই বীমা ত্যাগ করার পথ খোলা। ক্রমবর্ধমান প্রিমিয়ামের ফলে ফ্লোরিডার জ্যাক হিয়েরহোলজারের মতো বাড়ির মালিকরা তাদের পথের খোঁজ নিচ্ছেন। হিয়েরহোলজার তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার বাড়ির বীমা প্রিমিয়ামকে তিন গুণেরও বেশি ৬ হাজার ৫০০ ডলারে হতে দেখেছেন। ক্রমবর্ধমান প্রিমিয়াম বাড়ার ফলে এখন তিনি তার বাড়ির বীমা করার পরিবর্তে মর্টগেজ পরিশোধের কথা ভাবছেন।
বীমা বাজারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য বীমাকারী ও বাড়ির মালিকদের জন্য সামনের পথটি অনিশ্চিত। তবে এটি স্পষ্ট জলবায়ু সম্পর্কিত ঝুঁকির প্রতিক্রিয়াগুলো আগামী বছরগুলোয় বীমা ব্যয় ও বীমা কভারেজ বিকল্প গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।










