রফতানি বাড়াতে চিনি উৎপাদন ও রফতানিকারকদের বিশেষ ভর্তুকি দিয়ে আসছে ভারত। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির দেয়া এ বিশেষ সুবিধার বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) কাছে অভিযোগ জানিয়েছে কয়েকটি দেশ। খবর বিজনেস লাইন।

গত মাসে ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে ভর্তুকি সুবিধা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায় চিনি উৎপাদক ও রফতানিকারক কয়েকটি দেশ। কিন্তু ভারত এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর দ্বিতীয়বারের মতো ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও গুয়াতেমালা এ অভিযোগ করেছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে দায়েরকৃত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করেছে ডব্লিউটিও। গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির সদর দপ্তর জেনেভায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে রুল জারি করতে বিশেষ এ প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি দীর্ঘ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিশেষ এ প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর এসব অভিযোগের পরও ভারত চিনি রফতানিতে ভর্তুকি দেয়া অব্যাহত রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বে চিনি উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। ব্রাজিলের পরই দেশটির অবস্থান। কিন্তু চিনি রফতানিতে ভারতের ব্যাপক হারে ভর্তুকির ফলে বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে অন্য উৎপাদন ও রফতানিকারী দেশগুলো। এছাড়া ভারত নিজেদের চিনি কারখানাগুলোকে পোর্টের দূরত্বের ওপর নির্ভর করে প্রতি টন চিনি পরিবহনেও ১ হাজার থেকে ৩ হাজার রুপি পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে থাকে।

একই সঙ্গে সম্প্রতি বছরগুলোয় চিনি রফতানি ৬ লাখ ২০ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৩৩ লাখ টন করেছে ভারত। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে চিনি রফতানিতে ভারতের ভর্তুকি দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ করতে আরো উদ্যমী করে তুলেছে।

তিন দেশের এমন অভিযোগের বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন,  ডব্লিউটিওর কাছে অভিযোগের কারণ বিষয়ে তারা জানার চেষ্টা করছেন। কারণ চিনি উৎপাদন ও রফতানিকারকদের দেয়া ভর্তুকি সংস্থাটির আইন অনুযায়ী দিয়েছে সরকার।