করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় নতুন গতির সঞ্চার হয়েছিল।
চাহিদায় সাড়া দিয়ে জ্বালানি তেলের বাজার চাঙ্গা রাখতে উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক।
কিন্তু সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবের কারণে পণ্যটির চাহিদায় আবারো টান পড়েছে।
গত মাসে চাহিদা বৃদ্ধির হার ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইইএ জানায়, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে বিশ্বের বেশির ভাগ শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দ্রুতগতিতে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে যানবাহন চলাচল এবং জ্বালানি তেলের ব্যবহার তলানিতে ঠেকতে পারে।
আইইএর জ্বালানি তেলবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত এবং জোরালোভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আঘাত হেনেছে।
এর প্রভাবে গত জুলাইয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।
এতে চীন ও ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কমে যায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ।
গত মাসে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার টন হ্রাস পায়।
এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদা প্রায় পাঁচ লাখ টন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে আইইএ।
বিশ্বের জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক এবং ওপেক নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস গত মাসে জ্বালানি তেল উত্তোলনসংক্রান্ত একটি চুক্তি করে।
চুক্তিতে বাজার চাঙ্গা করার লক্ষ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
চলতি মাস থেকে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াবে ওপেক প্লাস।
আইইএ জানায়, শুধু ওপেক প্লাসই নয়, এর বাইরের উত্তোলকরাও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধি করছে।
চলতি বছর জোটের বাইরের দেশগুলো দৈনিক ছয় লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াবে।
আগামী বছরের মধ্যে এসব দেশের সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক ১৭ লাখ ব্যারেলকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এ প্রবৃদ্ধিতে ৬০ শতাংশ অবদান রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
আইইএ জানায়, ওপেক প্লাস ও জোটের বাইরের দেশগুলোর উত্তোলন বৃদ্ধি জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
জুলাইয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক ১৭ লাখ ব্যারেল বেড়ে মোট দৈনিক ৯ কোটি ৬৭ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে।
ওপেক প্লাসের বৃহৎ জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ সৌদি আরব এককভাবে উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় জোটভুক্ত দেশগুলোর উত্তোলনের পাল্লা আরো ভারী হচ্ছে।
এদিকে উত্তোলন বাড়লেও চাহিদা কমতে থাকায় আগামী বছর উদ্বৃত্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে।
আইইএর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ৫৩ লাখ টন বেড়ে ৯ কোটি ৬২ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে। তবে এটি সংস্থাটির আগের প্রাক্কলনের তুলনায় দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল কম।










