ইউক্রেনে চলতি বছর সাদা চিনির উৎপাদন বাড়বে। আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়ে উন্নীত হবে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টনে। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য রফতানিযোগ্য চিনির উদ্বৃত্তের পরিমাণ হবে ৯ লাখ ৫০ হাজার টন। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় চিনি ইউনিয়ন উকর্তসুকর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
সোভিয়েত যুগে ইউক্রেন ৫০ লাখ টন বিট চিনি উৎপাদন করেছিল। কিন্তু এরপর থেকে রফতানি সমস্যা ও আখ থেকে উৎপাদিত চিনির কারণে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বেত থেকে তৈরি চিনির কারণে তুমুল প্রতিযোগিতা উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
২০২৩ সালে ইউক্রেন ১৮ লাখ টন সাদা বিট চিনি উৎপাদন করেছে। ২০২২ সালে বিট চিনি উৎপাদনে চাষকৃত জমির পরিমাণ ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজারে উন্নীত করার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদনও বেড়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উকর্তসুকরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইয়ানা কাভুশেভস্কা বলেন, ‘চলতি বছরও জমির পরিমাণ ২০২৩ সালের মতো থাকবে। সে হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমি থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হবে।’
তিনি আরো জানান, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে নয় লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। সে হিসাবে ২০২৪-২৫ বিপণন মৌসুমে সাড়ে নয় লাখ টন চিনি রফতানি করা যাবে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা চলতি বছর ১৮ লাখ টন চিনি উৎপাদন হবে এবং নয় লাখ টন রফতানি করা হবে।
কাভুশেভস্কা বলেন, ‘রফতানির দিক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখনো ইউক্রেনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে ৪ লাখ ৯৩ হাজার টন নিত্যপণ্য ইইউতে রফতানি করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইউক্রেন থেকে চিনি আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। সে হিসেবে চলতি বছর পূর্বাভাসের তুলনায় কম চিনি রফতানি হবে। বাকি চিনি ২০২৫ সালের শুরুতে পুনরায় রফতানি করা হবে বলে জানা গেছে।’
অন্যদিকে আলাদা এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রথম ডেপুটি কৃষিমন্ত্রী তারাস ভিসোটস্কি জানান, চিনির অতিরিক্ত উৎপাদন রোধে বিট বপনের জমি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হতে পারে।
কাভুশেভস্কা জানান, কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং এগুলোর পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর মাধ্যমে পশ্চিম আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বাজারে চিনি রফতানি সম্ভব।










