উপসাগরীয় অঞ্চলে সার্বভৌম সম্পদের তহবিল দুই বছরে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বা ২০ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য ও ওই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতিতে বহুমাত্রিকতা আনার জন্য গৃহীত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ সার্বভৌম তহবিল বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের জরিপ অনুযায়ী, সার্বিকভাবে বৈশ্বিক সার্বভৌম সম্পদের ৩৭ শতাংশ হিস্যা উপসাগরীয় অঞ্চলের। এ তহবিলের আয়তন এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও সাব-সাহারান অঞ্চলের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের সমষ্টির সমান। ২০২২ সালে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ১০টি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পাঁচটিই হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতই উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট বিনিয়োগের ৬২ শতাংশ করেছে। ২৮ শতাংশ করেছে সৌদি আরব। ঠিক পর পরই রয়েছে কাতার।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রধান অর্থনীতিবিদ জামিল নায়িমের ভাষ্যানুযায়ী, ‘উপসাগারীয় অঞ্চলের সার্বভৌম তহবিল বেড়েছে মূলত জ্বালানি তেলের রফতানি থেকে। বহুমাত্রিক খাত সৃষ্টির পাশাপাশি দেশগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে উঠছে সাম্প্রতিক দিনগুলোয়।’
উপসাগরীয় অঞ্চলের সার্বভৌম তহবিল এখন আগের চেয়ে সক্রিয় ও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করে চলছে আন্তর্জাতিক বাজারে। সিঙ্গাপুরের জিআইসি রয়েছে সেরা ১০ রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। ২০২২ সালে জিআইসি উপসাগরীয় অঞ্চলে বিনিয়োগ করেছে ৪ হাজার ৩০ কোটি ডলার। ২০২১ সালের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটি ১৭ শতাংশ বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। অঞ্চলের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
এসঅ্যান্ডপির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘প্রতিকূল মহূর্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিনিয়োগ একটা ইতিবাচক প্রবণতাকেই তুলে ধরছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২২ সালে ৮ হাজার ৩০০ ডলারের মতো পুঁজি সংগ্রহ করেছে।’ বিভিন্ন খাত ও অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের সার্বভৌম তহবিলকে আরো সম্প্রসারণ হতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে চীন, ভারত ও এশিয়ার দেশগুলো তাদের নাগালের মধ্যে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, কার্বনমুক্ত জ্বালানি তৈরির পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য শক্তি ধারণার সম্প্রসারণ এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের পূর্বাভাস অনুসারে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ২০২৩ সালের জিডিপির তুলনায় চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত দাঁড়াবে ৯ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের জিডিপির ৬ শতাংশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত ২০২২ সালে ছিল ব১০ বছরের সর্বোচ্চে। মোট জিডিপির ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ হিস্যা নিয়ে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি।
বর্তমান লক্ষণে প্রমাণিত হয় তহবিল ক্রমেই বর্ধিত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের দেশগুলো থেকে বাড়ছে বিনিয়োগের পরিমাণ। অঞ্চলের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি শক্তির বৃদ্ধি এবং পরিবহন অর্থনীতির বিকাশে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। দেশগুলো অবিরাম গ্যাস ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বের হয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
২০২১ সালে সৌদি আরবের সরকারি বিনিয়োগ তহবিল ১৩ শতাংশ বেড়ে ৬০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছিল। গত বছরে সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের আওতায় ২৫টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় ১ লাখ ৮১ হাজার। যে পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে, তার আনুমানিক মান ১৩ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। একই সঙ্গে বেড়ে চলছে অভ্যন্তরীণ সম্পত্তি।










