যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে নতুন করে বেকার ভাতার জন্য আবেদনের সংখ্যা প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দেশটির কর্মসংস্থান বাজারে ধারাবাহিক দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, এটিই তার সর্বশেষ ইঙ্গিত। খবর এপি।
মার্কিন শ্রম মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজারে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ হাজার বেশি। আবেদনের এ সংখ্যা ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ এবং পূর্বাভাসকৃত ২ লাখ ৩১ হাজারের চেয়ে অনেক বেশি।
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতিতে প্রতি সপ্তাহে কয়েক লাখ মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করে, যা ছাঁটাইয়ের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। কভিড মহামারীর পর প্রায় চার বছর ধরে এ সংখ্যা গড়ে দুই লাখ থেকে আড়াই লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এ সীমার মধ্যে থাকলে শ্রমবাজারকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী ধরা হয়, কারণ বেকারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে না।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, চার সপ্তাহের গড় বেকার ভাতার আবেদন বেড়ে ৯ হাজার ৭৫০টি হয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৫০০।
এছাড়া ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতা নিচ্ছে এমন মানুষের সংখ্যা অপরিবর্তিত থেকে ১৯ লাখ ৪০ হাজারে ছিল।
গত সপ্তাহে বেকার ভাতার আবেদন বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে ছাঁটাইয়ের এখন গড় মানদণ্ডের তুলনা কম রয়েছে। তবে নিয়োগও দুর্বল হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদরা যাকে বলছেন ‘নো হায়ার, নো ফায়ার’ বা ‘না নিয়োগ, না ছাঁটাই’ পরিস্থিতি।
গত সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসের চাকরির তথ্যের একটি বড় ধরনের প্রাথমিক সংশোধন এনেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল মার্কিন শ্রমবাজার ততটা শক্তিশালী ছিল না। সংশোধিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ওই সময়কালে মার্কিন নিয়োগকর্তারা আগের প্রতিবেদনের তুলনায় ৯ লাখ ১১ হাজার কম চাকরি দিয়েছেন।
সবচেয়ে দুর্বলতা দেখা গেছে অবসর ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা এবং খুচরা ব্যবসায়। আরো জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিলে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার অনেক আগেই চাকরির প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছিল।
গত শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, মার্কিন অর্থনীতি আগস্টে মাত্র ২২ হাজার চাকরি তৈরি করেছে, যেখানে অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন ৮০ হাজার।
আরো জানা গেছে, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ মার্কিন নিয়োগকর্তারা ৭২ লাখ চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, যা পূর্বাভাসের চেয়ে কম এবং ২০২১ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো বেকারের সংখ্যা চাকরির বিজ্ঞাপনের চেয়ে বেশি হয়েছিল।










