বাসার দাম ও সুদের হার বাড়ার জেরে তাইওয়ানে ত্বরান্বিত হয়েছে ৩০ বছরব্যাপী মর্টগেজ চুক্তি। মর্টগেজ ঋণ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে সুদের হার কম থাকে। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে বেড়েছে আগ্রহ। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে সিনয়ি রিয়েলটি ইনকরপোরেশন। খবর তাইপে টাইমস। 

সিনয়ি রিয়েলটি গবেষণা ব্যবস্থাপক সেং চিং দের বলেন, ‘‌সম্প্রতি গড় মর্টগেজ ঋণ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে সূচক উঠেছে ২৯৭ মাস বা প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে শীর্ষে। এর মধ্যে ৩০ বছরমেয়াদি মর্টগেজ ঋণ ছিল প্রধান।’ অর্থাৎ যারা ৪০ বছর বয়সে বাড়ি কিনছেন, তাদের পরিশোধ করতে হবে বয়স ৭০ বছরে পৌঁছানোর আগেই। 

তাইওয়ানের বয়স্ক নাগরিকরা সুদ থেকে বাঁচার জন্য আগে নির্ধারিত সময়ের আগেই মর্টগেজ দিয়ে দিতেন। তবে ইদানীং এক্ষেত্রে নিম্ন সুদের হার সুবিধাজনক হয়ে উঠায় মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা নীতিমালা কঠিন করার আগে দীর্ঘদিন ধরেই মর্টগেজে সুদের হার ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত মার্চের পর পরিবর্তন হয়েছে।

সাধারণত ২০ বছরের জন্য মর্টগেজ নেয়া হয় আবাসন খাতে। অনেকেই এটি  নির্ধারিত সময়ের আগে পরিশোধ করে দেন। দেশটিতে উচ্চ আমানতের হারের সঙ্গে বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর নতুন এ প্রবণতা বেশি দেখা যায় তরুণদের মধ্যে। তাইপে, তাই ছাং ও সিনচু শহরে নতুন বাসা ক্রয় করছেন তারা। বিপরীতে নতুন সমাপ্ত হওয়া বাসার জন্য রয়েছে অনুকূল ঋণনীতি। বিশেষ করে আবাসন কোম্পানিদের সঙ্গে মিলে তারা গ্রাহকদের জন্য বেশকিছু সুবিধা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

তরুণরা ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণকে অনুকূল হিসেবে বিবেচনা করে। বাড়ির দামও ৩০ বছরের নীতিমালায় আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়ায়। তখন  মাসিক পেমেন্টও হয় কম। উদাহরণ হিসেবে, ১ কোটি নিউ তাইওয়ানিজ ডলার লোন করা হলে ২ শতাংশ সুদসহ মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে ৩৭ হাজার ২৬৩ তাইওয়ানিজ ডলার। অথচ কিছুদিন আগেও ২০ বছরের মর্টগেজ লোনের জন্য মাসিক কিস্তি ছিল ৫০ হাজার ৮৭৩ ডলার।