বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অচলাবস্থায় প্রবৃদ্ধির সংকোচনই সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কম। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয়ও প্রবৃদ্ধির মন্থরগতি লক্ষণীয়। মহামারীর অভিঘাত, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ, চীনের পুনরুদ্ধার গতিতে শ্লথগতি প্রভাবিত করেছে এশিয়া ও ইউরোপের জিডিপিতে। খবর টেলিগ্রাফ।
অর্থনীতিবিদ ও টেলিগ্রাফের কলামিস্ট রজার বোটল দাবি করেছেন, বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতির চেয়েও প্রবৃদ্ধির সংকোচন উদ্বেগজনক। যুক্তরাজ্যে পেট্রলের মূল্য সম্প্রতি কমেছে, ফলে হেডলাইন মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। কিন্তু বিষয়টি আরো দৃশ্যমান প্রকৃত মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে। প্রকৃত মূল্যস্ফীতি পরিমাপে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের হিসাব বাদ দেয়া হয়। সে হিসাবে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ১ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। যদি প্রকৃত মূল্যস্ফীতি বাড়ে, তা সুদহার নীতিমালায় নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণগুলো নেয়া হয়েছে মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। ফলে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া আর বাইরের গোষ্ঠীর কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। যুক্তরাজ্যের যে সরকারি ঘাটতি প্রকাশিত হয়েছে, যা সন্তোষজনক নয়। জুনে ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড। বার্ষিক ভিত্তিতে তা ১৪ কোটি পাউন্ড। অর্থাৎ মোট জিডিপির ৫ শতাংশ কিংবা তারও বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে পরিমাণটি ছিল জিডিপির ১৫ শতাংশ। তিন-চার বছরের ব্যবধানে বিষয়টি নাগালের মধ্যে আনা যাবে।
বিশ্বের প্রধান দেশগুলোয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার গতি সন্তোষজনক নয়। পারস্পরিক বাণিজ্য ও জিডিপির গতি প্রত্যাশার চেয়েও কম।










