নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সংক্রমণের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমলে নিজেদের উত্তোলন সীমা পর্যালোচনা করবে ওপেক প্লাস। সম্প্রতি জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও তার সহযোগী দেশের প্লাটফর্ম ওপেক প্লাস জানায়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পরবর্তী বৈঠকের আগেই এ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে। ওপেক প্লাসের এমন ঘোষণার পরই টানা ছয় সপ্তাহ পর গতকাল জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার ৩৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম দাঁড়িয়েছে ৭১ ডলার ১ সেন্ট। পূর্ববর্তী সেশনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ ডলার ৩৮ সেন্ট। এ বৃদ্ধির ফলে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্ট। বৃহস্পতিবার ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বাজারে তেলের সরবরাহ দৈনিক চার লাখ ব্যারেলেই স্থির করেছে ওপেক প্লাস। ওয়ানডার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জেফিরি হ্যালি বলেছেন, ওমিক্রনের আশঙ্কাজনক বিস্তার না হলে, চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইর নিম্নমুখী সরবরাহ আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওমিক্রনের সংক্রমণের কারণে বাজারে চাহিদা কমলে তার জন্য প্রস্তুত থাকবে ওপেক প্লাস। নতুন ভ্যারিয়েন্টের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বৈঠকে বসার আশ্বাস দিয়েছে জোটটি।

বৈশ্বিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থা উড ম্যাকেনজির বিশ্লেষক অ্যান লুই হিটল বলেছেন, পূর্ববর্তী ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় ওমিক্রন কতটা শক্তিশালী তা এখনো অনিশ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে ওপেক প্লাসের আগের সিদ্ধান্তে স্থির থাকা অবশ্যই সঠিক। তিনি আরো বলেন, বাজারের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওপেক প্লাসের সদস্য দেশগুলো। নতুন ভ্যারিয়েন্টটি তেলের চাহিদা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেললে তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হিটল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম টানা ছয় সপ্তাহ পড়তির দিকে ছিল জ্বালানি তেলের দাম। তবে শুক্রবার ওপেক প্লাসের বৈঠকের পর আবারো বেড়েছে পণ্যটির দাম।