চীনে জ্বালানি, খনিজ বা কৃষিপণ্য সরবরাহের অন্যতম শীর্ষ উৎস অস্ট্রেলিয়া। নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর সময় দেশ দুটির জ্বালানি বাণিজ্য আরো পোক্ত হয়েছে। মহামারীর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি রেকর্ড বাড়িয়েছে চীন। চলতি বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়া থেকে চীনের কয়লা আমদানি বেড়ে দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে গত মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি। এছাড়া মার্চে অস্ট্রেলিয়া থেকে আকরিক লোহা আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে চীনের ব্যবসায়ীরা। তবে বাণিজ্য ধর্মঘটের জেরে মহামারীতে অস্ট্রেলিয়া থেকে যব আমদানি কমিয়েছে দেশটি। খবর দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড ও ব্লুমবার্গ।

চীনের কাস্টমস বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে অস্ট্রেলিয়া থেকে সব মিলিয়ে ৪৩ লাখ টন কোকিং কোল আমদানি করেছে চীন। ২০১৯ সালের একই একই মাসের তুলনায় এ সময়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি ১০৫ শতাংশ বাড়িয়েছে দেশটির ব্যবসায়ীরা। মূলত মার্চে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মোট যে পরিমাণ কোকিং কোল আমদানি করেছে তার তিন-চতুর্থাংশের হিস্যা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কোকিং কোলের দখলে।

মার্চে অস্ট্রে লিয়া থেকে পণ্যটির আমদানি রেকর্ড বৃদ্ধির পেছনে  দুটি বিষয় কাজ করেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। প্রথমটি নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনেকটা সামলে উঠেছে চীন। ফলে দেশটির অর্থনৈতিক কার্যকলাপ পুনরায় চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। এছাড়া মহামারীর প্রকোপে বৈশ্বিক চাহিদি কমে আসায় বছরের শুরু থেকে পণ্যটির দামও বেশ কমে গেছে। পণ্যটির দাম হ্রাস অস্ট্রেলিয়া থেকে চীনের কয়লা আমদানি রেকর্ড বাড়াতে বাড়তি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

কয়লার পাশাপাশি মহামারীর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানিও বাড়িয়েছে চীন। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক জ্বালানি বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি কুইস্টের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়া থেকে মোট ৩৯টি এলএনজিবাহী কার্গো ক্রয় করেছে চীন। আগের মাসে দেশটি ক্রয় করেছিল মোট ২৯টি কার্গো এবং ২০১৯ সালের এপ্রিলে ক্রয় করেছিল ৩৬টি কার্গো। অর্থাৎ এক মাস ও এক বছরের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া থেকে চীনের এলএনজিবাহী কার্গোর ক্রয় যথাক্রমে ১১টি ও চারটি বেড়েছে।

জ্বালানি পণ্যের বাইরে চলতি বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়া থেকে চীনের আকরিক লোহা আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চীনের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যান্ড ট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া থেকে গত মার্চে চীনের আকরিক লোহা আমদানি ৩২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে খনিজ পণ্যটির আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ  কমে গিয়েছিল। নভেল  করোনাভাইরাস নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ১ ফেব্রুয়ারি চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্যতীত সাম্প্রতিক সময়ে চীন ভ্রমণ করা সবাই এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হয়। অস্ট্রেলিয়ার এ নীতি চীন সরকার কর্তৃক ব্যাপক সমালোচিত হয়। এটাই  ছিল ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে খনিজ পণ্যটির আমদানি হ্রাসের পেছনে মূল কারণ।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়া থেকে পণ্য আমদানি স্থগিতের ইঙ্গিত দিয়েছে চীন সরকার। দেশটি এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া নেহাতই চীনের জন্য একমাত্র বিকল্প নয়। ব্রাজিল প্রচুর আকরিক লোহা, এলএনজি ও কয়লা চীনের বাজারে সরবরাহ করতে সক্ষম।

এরই মধ্যে বাণিজ্য ধর্মঘটের কবলে পড়ে  অস্ট্রেলিয়া  থেকে আমিষ ও যব আমদানি কমিয়ে দিয়েছে চীন। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্যটির আমদানি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি কাজাখস্তান ও উরুগুয়ের সঙ্গে চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাশিয়া এরই মধ্যে চীনে কয়েকশ টন আমিষপণ্য রফতানি শুরু করে দিয়েছে।