পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা ও আইভরি কোস্টে সম্প্রতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কোকো উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস মিলেছে। বৈশ্বিক কোকো উৎপাদনে শীর্ষ স্থানে থাকা দেশ দুটিতে আবহাওয়া উৎপাদন বৃদ্ধির অনুকূলে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সিজিটিএন আফ্রিকা।
প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হয় কোকোর উৎপাদন। চলে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত। ফলে উৎপাদন শুরু হওয়ার আগে ভারি এ বৃষ্টিপাত ফসলটির উৎপাদনে ব্যাপকভাবে সহায়ক হবে।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার ইনকরপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ড্রিউ লার্নার বলেন, কোকো উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে আবহাওয়া দরকার, এখন পর্যন্ত সবকিছুই তার অনুকূলে। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কিছুটা হ্রাস পেলেও আগামী মাসে ফের বৃষ্টিপাত শুরু হবে। সেটা ফসল উৎপাদনের আগ পর্যন্ত বহাল থাকবে। শুধু তা-ই নয়, এ বৃষ্টিপাতের পর ফের বার্ষিক আর্দ্রভাব ফিরে আসবে, যেটা কোকো উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহায়ক।
তিনি আরো বলেন, আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি তাতে আর যা-ই হোক পণ্যটির গড় উৎপাদনের চেয়ে এবার কিছুটা বেশি উৎপাদন হওয়া উচিত। ফসল হিসেবে কোকো দুর্দান্ত এবং চাষীরা নতুন ঋতু নিয়ে বেশ উত্ফুল্ল।
জুলাই ও আগস্টের শুরুর দিকের আবহাওয়া কোকো উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময়টা অনুকূলে থাকলে কোকো উৎপাদনের বিষয়ে পূর্বাভাস দেয়া সহজ হয়।
বিশ্বে মোট কোকোর ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা ও আইভরি কোস্ট। এর মধ্যে বিশ্বে আইভরি কোস্টের পর ঘানা দ্বিতীয় শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ। আর পণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় ঘানার অবস্থান সবার শীর্ষে।
চলতি মৌসুমে আইভরি কোস্ট ২৩ লাখ টন কোকো উৎপাদন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশটির ক্ষেত্রে রেকর্ড পরিমাণ কোকো উৎপাদনের পূর্বাভাস। অন্যদিকে আসন্ন মৌসুমে ঘানা ৯ লাখ ৫০ হাজার টন কোকো উৎপাদন করবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির কোকো বোর্ড। যদিও ভলক্যাপের সার্জেন্ট এ উৎপাদন ৯ লাখ ৬০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে।
সম্প্রতি কোকোর ক্রমাগত দরপতনের জের ধরে স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কোকো রফতানিতে সাময়িক স্থগিতাদেশ আরোপ করে ঘানা ও আইভরি কোস্ট। পরে পণ্যটির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পর তারা এ স্থগিতাদেশ তুলে নেয়।










