জ্বালানি তেলের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের অন্যতম হাতিয়ার হলো শেল অয়েল (পাথরের ভাঁজে থাকা জ্বালানি তেল)। কয়েক বছর ধরে দেশটিতে শেল অয়েল উত্তোলনে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে। কিন্তু আগামী মাসেই দেশটির উত্তোলনে বড় ধস দেখছে এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, আগামী মাসে দেশটির শেল অয়েলের দৈনিক উত্তোলন ১ লাখ ২১ হাজার ব্যারেল কমতে পারে। খবর অয়েল প্রাইস ডটকম।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ইআইএর ‘ড্রিলিং প্রডাক্টিভিটি রিপোর্ট’-এ বলা হয়েছে, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সাতটি শেল অয়েলক্ষেত্র থেকে উত্তোলন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসবে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম উত্তোলন হতে পারে ইগল ফোর্ডক্ষেত্র থেকে। এটি থেকে এ মাসে দৈনিক উত্তোলন ১০ লাখ ৪৮ হাজার থেকে কমে ১০ লাখ ১৪ হাজার ব্যারেলে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর উত্তোলন কমে আসার দিক থেকে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকতে পারে নিয়বরারা শেল অয়েলক্ষেত্রটি।
এদিকে ইআইএর প্রাক্কলন তথ্যে কেবল আগামী মাসেই নয়, বরং পরের মাস, এমনকি আগামী বছরও যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল উত্তোলন ধারাবাহিকভাবে কমে আসার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। শেল অয়েল উত্তোলন কমে আসায় দেশটির জ্বালানি তেল উত্তোলনেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এজন্য আগামী নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের দৈনিক উত্তোলন ৭৮ লাখ ১৩ হাজার থেকে কমে ৭৬ লাখ ৯২ হাজার ব্যারেলে এসে নামতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
জ্বালানি তেলের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে মার্কিন সংস্থাটি। তারা বলছে, আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সাতটি প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন অঞ্চল থেকে দৈনিক উত্তোলন ৮ হাজার ২৪০ কোটি ২০ লাখ থেকে কমে ৮ হাজার ১৭৮ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি উত্তোলন কমতে পারে অ্যাপালাসিয়া অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস, জ্বালানি তেল উত্তোলনে উল্লেখযোগ্য বড় ধস হঠাৎ করেই আসছে না। বরং কয়েক মাস ধরেই দেশটির জ্বালানি তেল উত্তোলনে উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যার শুরুটা হয় গত আগস্টে। এ সময় থেকে জ্বালানি তেল বিশেষ করে শেল অয়েলের উত্তোলন কমে আসতে থাকে।
এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চলতি ও আগামী বছর মোটেই ভালো যাবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেজ্ঞরা। তারা বলছেন, চলতি ও আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল উত্তোলন আরো কমবে। আর সেটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে অন্যতম উৎস হিসেবে আরো বেশি মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হয়ে উঠবে জ্বালানি তেলের বাজার।
জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যবিষয়ক তথ্য প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের তথ্য বলছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল দৈনিক উত্তোলন নয় লাখ ব্যারেল কমে যাবে। ২০২১ সালে উত্তোলন আরো কমে দাঁড়াবে ১১ লাখ ব্যারেলে।










