টানা চতুর্থ মাসের মতো এপ্রিলে জাপানের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোয় উৎপাদন কার্যক্রম মন্থর রয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন সংকটাবস্থার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে কমে গেছে জাপানের রফতানিমুখী পণ্যের চাহিদা। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির রফতানিনির্ভর অর্থনীতিতে। সম্প্রতি এমনটাই উঠে এসেছে রয়টার্স তানকানের চালানো জরিপে। খবর রয়টার্স। 

রয়টার্স তানকান খুব কাছ থেকে ব্যাংক অব জাপানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। বড়”কোম্পানিগুলো নিয়ে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ৫-১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪০টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে তানকান। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, টানা চতুর্থ মাসের মতো অগ্রগতি ঘটেছে জাপানের পরিষেবা খাতে। মহামারী-পরবর্তী দেশটির পর্যটন শিল্প, রেস্টুরেন্টের তৎপরতা ও খুচরা বিক্রির পরিমাণ উল্লেখজনকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় পথে এমন তৎপরতা আশাব্যঞ্জক। 

এসএমবিসি নিক্কো সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়োশিমাসা মারুয়ামা জানিয়েছেন, জরিপটি মহামারী-পরবর্তী জাপানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সফলতাকে চিহ্নিত করে। বিশেষ করে পরিষেবা খাতের প্রক্রিয়াকে। তবে বৈশ্বিক চাহিদা সংকুচিত হওয়ার কারণে উৎপাদন খাত এখনো স্তিমিত রয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার ব্যাংক খাতে উদ্বেগ দেখা দেয়ায় গ্রাহকরা সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময়ক্ষেপণ করছেন। মহামারী-পরবর্তী চীনের অর্থনৈতিক পুনোরুদ্ধারের ধীরগতিও পালন করেছে অনুঘটকের ভূমিকা। উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডের ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের পতনের পর ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোর শেয়ারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় উদ্বেগ। জার্মানির ডয়চে ব্যাংক ও ফ্রান্সের বিএনপি পারিবাসের প্রাথমিক লেনদেনে বড় পতন দেখা যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এইচএসবিসি ও বার্কলেস ব্যাংকের শেয়ারদরেও দেখা যায় পতন। পতনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার শতাধিক ব্যাংক। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। রফতানিমুখী অর্থনীতির দেশ হওয়ার কারণে জাপান প্রত্যক্ষভাবে তা থেকে প্রভাবিত হয়েছে। 

রয়টার্স তানকান জরিপে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আশাবাদী ও নিরাশাবাদী প্রতিষ্ঠানকে পৃথক করে শতকরা হিসেবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তালিকায় ঋণাত্মক মানের অর্থ হলো আশাবাদী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিরাশাবাদী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার চেয়ে বেশি। জরিপে বৃহৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর সেন্টিমেন্ট সূচক দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৩তে। গত মাসের তুলনায় সূচকের মান অপরিবর্তিত, তবে টানা চতুর্থ মাসের মতো ঋণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে মহামারীর প্রাদুর্ভাবে টানা ১৮ মাস ঋণাত্মক পাঠ দিয়েছে সূচক। তারপর এবারই ধারাবাহিক রূপ নিয়েছে। এদিকে জরিপে উৎপাদন সূচক আগামী তিন মাসের মধ্যে +৭তে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বৃহৎ পরিষেবা খাতের উৎপাদন সূচক এপ্রিলে উত্তীর্ণ হয়েছে +২৪তে। চলতি বছরের মার্চে এ মান ছিল +২১। গত বছর ডিসেম্বরের পর জরিপে সর্বোচ্চ মান দেখাচ্ছে এবার। তবে আগামী জুলাইয়ে সূচক অবনমিত হয়ে +১৯তে নামবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। জাপানের উৎপাদন খাত সার্বিকভাবে এখন সংকটাবস্থা অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা না এলে এ সংকট থেকে উত্তরণ সহজ হবে না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। এদিকে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়িদা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন। ২৭-২৮ এপ্রিল এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য বৈঠক আহবান করা হয়েছে।