ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন (ওয়াশ) অর্থায়ন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও ওয়াটার ডট অর্গ। দেশের ব্যাংকিং খাতে এটি প্রথম জাতীয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (ডব্লিউএসএস) বিষয়ক কর্মশালা।
সম্প্রতি কক্সবাজারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অংশ নেন ব্র্যাক ব্যাংক ও ওয়াটার ডট অর্গের কর্মকর্তারা। কর্মশালায় তারা ওয়াশ ফাইন্যান্সিং উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়ানোর উদ্ভাবনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
২০২৪ সালের জুনে ওয়াটার ডট অর্গের সহযোগিতায় ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশের প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পানি ও স্যানিটেশন খাতে অর্থায়ন চালু করে। এরপর থেকে ব্যাংকটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করেছে, যা প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
কর্মশালার প্যানেল আলোচনায় টেকসই উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিএফও এম মাসুদ রানা এবং ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিওও মো. সাব্বির হোসেন। ওয়াটার ডট ওআরজির পক্ষে অংশ নেন দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক সাজিদ অমিত।
কর্মশালায় প্রশিক্ষণ সেশন, এসএমই নেতাদের দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক কুইজের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ডব্লিউএসএস অর্থায়নে বিশেষ অবদান রাখায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় ও মাইক্রোফাইন্যান্স বিভাগের সেরা পারফর্মারদের সম্মাননা দেয়া হয়।
তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, পরিষ্কার পানি ও স্যানিটেশন কেবল মৌলিক মানবাধিকার নয়। এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি। ওয়াটার ডট অর্গের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং মডেল গড়ে তুলতে চাই, যা দেশের মানুষের জীবনমান ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগ আমাদের টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।
প্রসঙ্গত, ম্যাট ডেমন ও গ্যারি হোয়াইট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ওয়াটার ডট ওআরজি বিশ্বব্যাপী পানি ও স্যানিটেশনের প্রাপ্যতা নিশ্চিতে কাজ করে। কর্মশালার সেশনগুলোতে এই সংস্থার বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, ডব্লিউএসএস প্রকল্পের প্রভাব সম্পর্কিত গ্লোবাল কেস স্টাডি ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প শেয়ার করার পাশাপাশি টেকসই পরিবর্তনে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
—বিজ্ঞপ্তি










