চীনের বাজারে সংকটে পড়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশটিতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রভাব ফেলেছে বিক্রয় সূচকে। ইভি বিক্রি বৃদ্ধির সঙ্গে কমছে গ্যাসোলিনচালিত গাড়ি বিক্রি। সেখানে তুলনামূলক কম দামের গাড়ি নিয়ে চীনা ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি দখল করছে বাজার। সামগ্রিকভাবে বিদেশী ব্র্যান্ডের অবনমন ঘটলেও প্রথম প্রান্তিকে জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পতন ছিল সবচেয়ে বেশি। খবর রয়টার্স।
কারখানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চীনে জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বছরওয়ারি ৩২ শতাংশ কমেছে। স্বাভাবিক বাজার সংকোচনের চেয়ে এ পরিমাণ দ্বিগুণ। ফক্সওয়াগনের মতো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে সুবিধা করে উঠতে পারেনি বিওয়াইডির সঙ্গে প্রতিযোগিতায়। যদিও জাপানি ব্র্যান্ডের পিছিয়ে পড়ার বড় কারণ আরা তীব্র। দেশটিতে দ্রুতবর্ধনশীল ইভির বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না জাপানি কোম্পানিগুলো। সেদিকে ইঙ্গিত করে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারক প্রতিষ্ঠান ডেনসো করপোরেশনের অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ইয়াসুশি মাতসুই দাবি করেছেন, বিশেষ করে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে গাড়ি আনার ক্ষেত্রে অভিনবত্বের দিকে বিবেচনা করছে। খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে নতুন পরিস্থিতিতে।
এদিকে মিতসুবিশি মোটর করপোরেশন চীনের বাজারে এসইউভি প্রস্তুতি তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত জিএসি গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে গাড়ি উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যান্য জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মতো মিতসুবিশিও বিক্রয়ে সফলতা দেখাতে পারেনি। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মিতসুবিশির বিক্রি বছরওয়ারি ৫৮ শতাংশ কমেছে। নিশানের সিলফি তিন বছর ধরেই চীনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ি ছিল। তাকে প্রতিস্থাপিত করেছে বিওয়াইডি সং। নিশানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে অবস্থান তৈরি করতে তারা সর্বত্র সার্বক্ষণিক সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া নিয়ে কাজ করছে। এদিকে টয়োটা মোটর করপোরেশনের সব ধরনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতেই বিক্রি ছিল যথেষ্ট কম। সাংহাইভিত্তিক ফার্ম অটোমোবাইলিটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিল রুসো বলেন, ‘চীনের বাজারে মূল্যযুদ্ধে সবচেয়ে বড় ধরনের পরাজয় বরণ করেছে জাপান। ইভি আরো সুলভ হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ক্রেতাদের জন্য। এতদিন যারা নিজেদের আটকে রেখেছিলেন, তারাও নেমেছে ইভি ক্রয়ের ক্ষেত্রে। বিদেশী ব্র্যান্ডের গ্রাহকরাও আকর্ষিত হচ্ছে বিওয়াইডির প্রতি।’
২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের বাজারে জাপানের গাড়ি বিক্রয় ছিল ২৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে টয়োটা ও তার অভিজাত ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিক্রি প্রথম প্রান্তিকে কমেছে ১৪ শতাংশ। টয়োটার পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কোজি সাতো বলেছেন, ‘চীনা বাজারের প্রত্যাশা বোঝার জন্য আমাদের গ্রাহকের প্রত্যাশা অনুযায়ী গতি ও মূল্যের দিকে নজর দিতে হবে।’










