মেটার লন্ডন কার্যালয়ে থাকাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি শহরটির ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবিতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। বর্তমানে ওই সাবেক কর্মী লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তদন্তের মুখে রয়েছেন। ঘটনায় কীভাবে তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং আর কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি মেটাতে কর্মরত থাকাকালীন একটি বিশেষ প্রোগ্রাম বা ‘স্ক্রিপ্ট’ তৈরি করেছিলেন। প্রোগ্রামটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল, যা মেটার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির নিজস্ব নিরাপত্তা নজরদারি এড়িয়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত অ্যালবামে প্রবেশ করে ছবিগুলো ডাউনলোড করতেন।
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক বছরেরও বেশি সময় আগে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি বা ‘ব্রিচ’ শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনারের কার্যালয়ের (আইসিও) এক মুখপাত্র বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যেন দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করা হয়, সে আস্থা বজায় রাখা জরুরি।’
দেশটির আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো কর্মী নিয়োগদাতার অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি সংগ্রহ করেন, তবে সেটি ডেটা সুরক্ষা ও কম্পিউটার অপব্যবহার আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
মিশকন দে রেয়া আইন সংস্থার সিনিয়র ডেটা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ জন বেইনস বলেন, ‘সাধারণত যদি কোনো কোম্পানি যথাযথ কারিগরি এবং সাংগঠনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখে, তবে একক কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য কোম্পানি দায়ী হয় না। তবে আদালত বা তথ্য কমিশনার যদি মনে করেন মেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না, তাহলে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অংকের জরিমানা বা আইনি দাবির মুখে পড়তে হতে পারে।’
উল্লেখ্য, মেটা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আইনি ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত মাসেই লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত মেটা ও গুগলকে (ইউটিউব) ব্যবহারকারীদের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে দায়ী সাব্যস্ত করেছে।
আদালত এক রায়ে জানান, দুই প্রতিষ্ঠান জেনেশুনে এমনভাবে নিজেদের প্লাটফর্ম তৈরি করেছে, যা অল্প বয়সী ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে ফেলছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জুরি বোর্ড এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
তবে মেটা জানিয়েছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি জটিল বিষয় এবং এজন্য কেবল একটি অ্যাপকে দায়ী করা ঠিক নয়।
বর্তমানে মেটা, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরো ১ হাজার ৬০০টির বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ‘ছবি চুরির’ ঘটনা মেটার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে পুনরায় বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লন্ডনের এ ঘটনার তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।










