প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ইউক্রেনের শস্য উৎপাদন ও রফতানি কমতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী ভিটালি কোভাল। তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রায় ছয় কোটি টন শস্য উৎপাদন হয়েছিল। চলতি বছর তা কমে ৫ কোটি ৪৬ লাখ টনে নেমে যেতে পারে। খবর রয়টার্স ও হেলেনিক শিপিং নিউজ।

কৃষিমন্ত্রী জানান, উৎপাদন কম হলেও শস্য রফতানি অব্যাহত রাখবে ইউক্রেন। দেশটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৬২ লাখ টন গম ও ২ কোটি ১৭ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করতে পারে। আগের অর্থবছরে ১ কোটি ৮৪ লাখ টন গম ও ২ কোটি ৯৪ লাখ টন ভুট্টা রফতানি করেছিল। 

মজুদ বেশি থাকায় গত বছর এ রফতানি সম্ভব হয়েছিল। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় এ মজুদ তৈরি হয়েছিল। 

চলতি বছর ইউক্রেনে ২ কোটি ১৮ লাখ টন গম ও ২ কোটি ৫৮ লাখ টন ভুট্টা আহরণের আশা করা হচ্ছে। দেশটির প্রধান কৃষি উৎপাদন ইউনিয়ন ইউএসসি বলছে, এ সময় ২ কোটি ৩০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে। তবে কৃষি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এপিকে-ইনফর্মের মতে, ২ কোটি ৬৮ লাখ টন ভুট্টা আহরণ হতে পারে। এর মধ্যে রফতানি হতে পারে ২ কোটি ২৫ টন ভুট্টা। 

ভিটালি কোভাল জানান, এ বছর অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে ইউক্রেনের বেশির ভাগ শস্য উৎপাদন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে দেরিতে চাষ করা শস্যের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গমের মতো আগাম ফসলের উৎপাদন ২ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দেরিতে চাষ হওয়া ভুট্টা ও তেলবীজের ফলন ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

কোভাল জানান, চাহিদা বেশি থাকায় সরকার গম রফতানি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। রফতানি সীমা ১ কোটি ৬২ লাখ টন অতিক্রম করলে রফতানি স্থগিত করে দেয়া হবে।