ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চল মানসম্মত জাফরান চাষের জন্য বিখ্যাত। তবে বিভিন্ন কারণে এ অঞ্চলে মূল্যবান মসলাপণ্যটির অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির সুদিন ফেরাতে অঞ্চলটির কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে জিওগ্রাফিক ইন্ডিকেশনের (জিআই) চেয়ে আসছিলেন। অবশেষে তাদের চাওয়া পূরণ হয়েছে। সম্প্রতি কাশ্মীরের জাফরান দীর্ঘমেয়াদে জিআই ট্যাগ পেয়েছে। এ স্বীকৃতি পণ্যটির গুণগত মান রক্ষা করবে বলে প্রত্যাশা করছেন শিল্পটির সঙ্গে জড়িতরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির রফতানি মূল্য চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা তাদের। খবর দ্য ট্রিবিউন।

ভারতের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন রেজিস্ট্রি দপ্তর কাশ্মীরি জাফরানের ওপর জিআই ট্যাগ নম্বর ৬৩৫ অনুমোদন দিয়েছে। কাশ্মীরের কৃষি বিভাগের পরিচালক এ জিআই ট্যাগ নিবন্ধনের স্বত্বাধিকারী হবেন।

কাশ্মীরের কৃষি বিভাগের পরিচালক আলতাফ আইজাজ আনদ্রাবি বলেন, কাশ্মীরের জাফরানের জিআই ট্যাগ পাওয়ার মুহূর্তটি তাদের কাছে সত্যি গর্বের। এ স্বীকৃতিতে অঞ্চলটির জাফরান বাণিজ্য ব্যাপকভাবে লাভবান হতে চলেছে। জিআই ট্যাগ পণ্যটির দাম বাড়িয়ে তুলবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। ফলে স্থানীয় কৃষকরা মূল্যবান মসলা পণ্যটির উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।


জিআই ট্যাগ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরের জাফরানের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। জিআই ট্যাগ প্রাপ্তির কয়েকদিন আগেও এ অঞ্চলের প্রতি কেজি জাফরানের গড় মূল্য ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার রুপির মতো। বর্তমানে পণ্যটির দাম বেড়ে ২ লাখ ১০ হাজার রুপিতে কেনাবেচা হচ্ছে।

জাফরান এমনিতেই পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল মসলা। এর মধ্যে অন্যগুলোর তুলনায় কাশ্মীরি জাফরানের মূল্য ঢের বেশি। কারণ অন্য দেশের তুলনায় গুণগত মানের দিক থেকে কাশ্মীরের জাফরান উন্নতমানের। জিআই ট্যাগের আগে এ অঞ্চলের প্রতি কেজি জাফরানের মূল্য ছিল মানভেদে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ রুপি।

অন্যদিকে ইরানে উৎপাদিত জাফরান কাশ্মীরের থেকে ৪৮ শতাংশ কমে বিক্রি হয়। এছাড়া ইরানে পণ্যটির উৎপাদনও হয় ব্যাপকভাবে। বৈশ্বিক বাজারে ইরানে উৎপাদিত জাফরানের হিস্যা ৯৫ শতাংশ। এ কারণে অধিক লাভের আশায় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী উচ্চ গ্রেডের কাশ্মীরের জাফরানের সঙ্গে ইরান থেকে কম দামে জাফরান আমদানি করে ভেজাল মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। এতে পণ্যটির সুনাম যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছিল, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের এ খাতে মুনাফা কমে যাচ্ছিল। ফলে ভারতের চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে পণ্যটির জিআই ট্যাগ দাবি করে আসছিলেন।