দীর্ঘ চার দশকের মন্দাবস্থা কাটানোর পর কিছুটা বাড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের গম উৎপাদন। ২০২১-২২ বিপণন বছরে দেশটির গম উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টনে, যা গত বিপণন বছরের তুলনায় ৫০ লাখ টন বেশি। ২১ এপ্রিল প্রকাশিত মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) বৈশ্বিক কৃষি তথ্য নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন অনুসারে এমন তথ্য পাওয়া যায়। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।

ইউএসডিএর মতে চলতি বিপণন বছরে যুক্তরাজ্যের মোট গম উৎপাদন এলাকা অন্তত চার লাখ হেক্টরের কাছাকাছি বাড়বে। ইউএসএডি জানায়, বছরের শেষ মৌসুমে রোপণের জন্য আবহাওয়া আরো চমত্কার রূপ ধারণ করেছে। আবহাওয়া অনুকূল ও রোপণের জন্য এমন উপযুক্ত থাকায় কৃষকরা আরো বেশি শীতকালীন গম উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে ফিরে এসেছেন। অনেক কৃষক বসন্তকালীন ফসলের চেয়ে গমেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশি। ফলে চলতি বছর গম উৎপাদনের প্রতি কৃষকদের এমন আগ্রহের প্রভাবে যব উৎপাদন কিছুটা কমে আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে ২০২১-২২ বিপণন বছরে যব উৎপাদন কমে ৭২ লাখ টনে পৌঁছবে। এর আগে ২০১৯-২০ বিপণন বছরে যব উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮১ লাখ টন।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস বলছে, ২০২১-২২ বিপণন বছরে গম, যব, ওটস এবং অন্যান্য শস্য মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের মোট শস্য উৎপাদন দাঁড়াবে ২ কোটি ৩১ লাখ টনে, যা চলতি বছরের তুলনায় ৪০ লাখ টন। বেশি তবে ২০১৯-২০ বিপণন বছরের তুলনায় ১৭ লাখ টন কম।

ইউএসডিএ জানায়, গত বছর স্বল্প পরিমাণে গম উৎপাদন যুক্তরাজ্যের পশুখাদ্য রেশনে যবের পরিমাণ বাড়িয়েছে। ফলে ২০২০-২১ সালে বায়ো-ফুয়েলে ব্যবহারের জন্য গম আমদানির পরিমাণও বেড়েছে। তবে ২০২১-২২ বিপণন বছরে আনুমানিক পশুখাদ্য উৎপাদন ও গমের অবশিষ্ট ব্যবহার ৭৫ লাখ ৫০ টনে পৌঁছবে বলে ধারণা করছে ইউএসডিএ, যা গত বছরের তুলনায় ৬০ লাখ টন বেশি। একই সময়ে পশুখাদ্যে যবের ব্যবহার কমে অন্তত ৪০ লাখ টনে পৌঁছার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, গত বছর পশুখাদ্যে যবের ব্যবহার হয়েছিল ৫৩ লাখ টন।

ইউএসডিএ জানায়, বায়ো-ইথানল খাতে শস্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ঘোষণা খাদ্য, বীজ ও শিল্প খাতে আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা দেয় যে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তারা ইথানল জ্বালানি ব্যবহারের ঘোষণা দেয়।

আগে বন্ধ করে দেয়া সুবিধাগুলো পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে শুধু উৎপাদনশীলতাই বাড়বে না, বরং অভ্যন্তরীণ পশুখাদ্যের গুণগত মানও বাড়বে।