ব্রাজিলের কফি রফতানি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। গত মাসে দেশটি থেকে রেকর্ড পরিমাণ কফি রফতানি হয়েছে। এ সময় দেশটি থেকে ৩৮ লাখ ব্যাগ কফি রফতানি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় যা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। খবর এএনবিএ
ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ কফি রফতানিকারক দেশ। দেশটি থেকে মূলত গ্রিন, রোস্ট ও গ্রাউন্ড কফি রফতানি হয়। ব্রাজিলিয়ান কফি এক্সপোর্টারস কাউন্সিলের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বরে কফি রফতানি থেকে ব্রাজিলের আয় এসেছে ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্থানীয় মুদ্রায় হিসাব করলে এ সময়ে দেশটির আয় এসেছে ২৫০ কোটি ব্রাজিলিয়ান রিয়াল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
এ বিষয়ে ব্রাজিলিয়ান কফি এক্সপোর্টারস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নেলসন কারভালহেইস বলেন, সেপ্টেম্বরের কফি রফতানির চিত্র সত্যিই সন্তোষজনক। মাস হিসেবে এটি রেকর্ড পরিমাণ রফতানি। স্থানীয় মুদ্রায় রফতানি আয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তবে কনটেইনার সংকট এবং ভেসেলের জন্য বন্দরের জায়গা সংকটসহ অন্যান্য লজিস্টিক বিষয়গুলোর সমস্যা না থাকলে এ সময় রফতানি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা ছিল।
কফি রফতানিকারক সংস্থার এ শীর্ষ ব্যক্তির বক্তব্যের চিত্র উঠে এসেছে জাহাজ শিল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডাটামারের তথ্যেও। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ব্রাজিলের বন্দরগুলোতে এখন কনটেইনারের মধ্যে ভারসাম্যহীন অবস্থা বিরাজ করছে। গত আগস্টে দেশটি থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার কনটেইনার ছেড়ে গিয়েছে। এর বিপরীতে দেশটিতে এসেছে ১ লাখ ৭২ হাজার কনটেইনার। সেই হিসাবে প্রায় ৮০ হাজার কনটেইনার এখন ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা পক্ষান্তরে কফি রফতানিতে শ্লথগতি এনে দিয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রাজিলে এখন রেকর্ড পরিমাণ কফির উদ্বৃত্ত রয়েছে। কিন্তু রফতানির একেবারে উপযুক্ত সময় হওয়া সত্ত্বেও এবং রফতানি বৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা থাকলেও কফি রফতানি করতে পারছে না দেশটির ব্যবসায়ীরা। এর প্রধান কারণ হলো কনটেইনার সংকট। পানীয় পণ্যটির রফতানির জন্য ব্যবসায়ীরা জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও কনটেইনার সংকটের কারণে গন্তব্যে পাঠানো যাচ্ছে না।
ব্রাজিলের কফির অন্যতম গন্তব্যস্থল হলো আরব দেশগুলো। ব্রাজিল থেকে যত কফি রফতানি হয় তার ৪ দশমিক ৬ শতাংশের গন্তব্যই আরব দেশগুলো। গত সেপ্টেম্বরে এ অঞ্চলে ১৪ লাখ ব্যাগ কফি রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। এর বিপরীতে দেশটির আয় এসেছে ১৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।










